উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা; রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা
২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হয়েছে জাতীয় সংসদে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) কণ্ঠভোটে ‘নির্দিষ্টকরণ আইন, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
নতুন বাজেটের আকার বিদায়ী অর্থবছরের ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি।
বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। বাজেটের মোট আকার জিডিপির প্রায় ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
অর্থমন্ত্রী বাজেটে ‘থ্রিআর কৌশল’ ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীল করা, কাঠামোগত সংস্কার এবং প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই কৌশল ধাপে ধাপে আগামী এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে।
বাজেট বাস্তবায়নের জন্য ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকার ব্যয় অনুমোদনের প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করা হয়।
এর আগে ‘জাতীয় সংসদ অর্থ বিল, ২০২৬’ কয়েকটি সংশোধনীসহ পাস করা হয়। এর মধ্যে করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা বাতিলের বিষয় উল্লেখযোগ্য।
নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির ওপর তাদের ব্যয়ের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। পরে বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা ১ হাজার ৩৪৩টি ছাঁটাই প্রস্তাব দেন, যা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যসহ মোট ৪৩ জন সদস্য ৩৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ব্যয় কমানোর প্রস্তাব দিয়ে আলোচনায় অংশ নেন।
ছাঁটাই প্রস্তাবের আওতাভুক্ত মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জনপ্রশাসন, অর্থ বিভাগ, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্য ও সম্প্রচার, কৃষি, পরিবেশ, ভূমি, রেলপথ, সড়ক পরিবহনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর।
বিরোধী দলীয় নেতার অনুরোধে স্পিকার গিলোটিন পদ্ধতি প্রয়োগ করে অবশিষ্ট মঞ্জুরি দাবিগুলো কণ্ঠভোটে একযোগে অনুমোদন করেন।
নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের সময় বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা সংসদে উপস্থিত থাকলেও বিলটির বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক আপত্তি তোলা হয়নি।