উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
কৃষি মন্ত্রণালয়ের চলমান ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে গোবর সার সংক্রান্ত নির্দেশনা নিয়ে মাঠ পর্যায়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত দরে গোবর সার সংগ্রহ, সরবরাহের বাস্তব অসুবিধা এবং কর্মসূচির শেষ দিনে সরকারি আদেশ (জিও) সংশোধনের ঘটনায় উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে চলতি বছরে ১৬ লাখ ২৮ হাজার ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণের উদ্যোগ নেয় কৃষি মন্ত্রণালয়।
৪ জুন জারি করা সরকারি আদেশ (জিও) অনুযায়ী বলা হয়—
এ অনুযায়ী একজন কৃষকের ৫টি চারার বিপরীতে ১৫০ কেজি গোবর সার পাওয়ার কথা ছিল, যার বরাদ্দ দাঁড়ায় প্রায় ৬০০ টাকা।
দেশের বিভিন্ন জেলার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয়ভাবে এত বিপুল পরিমাণ গোবর সার স্বল্প সময়ে সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব।
একজন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন,
“নির্ধারিত ৪ টাকা কেজি দর বাস্তব বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংগ্রহ, পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয় যোগ করলে এটি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।”
অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত গোবর না থাকায় সময়মতো বিতরণ কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হয়। কোথাও কোথাও নিম্নমানের সার ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে।
কর্মসূচির শেষ দিন ৩০ জুন বিকেলে কৃষি মন্ত্রণালয় একই স্মারক নম্বর ও তারিখে জিও সংশোধন করে নতুন নির্দেশনা দেয়।
সংশোধিত আদেশ অনুযায়ী—
যেসব উপজেলায় আগের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে নতুন নির্দেশনার কারণে হিসাব সমন্বয় ও অডিট আপত্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন,
“কাজ শেষ হওয়ার পর নিয়ম পরিবর্তন হওয়ায় ভবিষ্যতে অডিট আপত্তির দায় কে নেবে—এটাই এখন বড় প্রশ্ন।”
মৃত্তিকা সম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, গাছের জন্য জৈব সারের গুণগত মান গুরুত্বপূর্ণ, পরিমাণ নয়। ভার্মিকম্পোস্ট বা ট্রাইকোকম্পোস্ট ব্যবহার আরও কার্যকর হতে পারত।
কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ জানান,
“৩০ কেজি গোবর সার বাস্তবসম্মত ছিল না। বাজারদর বিবেচনায় এখন প্রতি চারায় ৫ কেজি গোবর সার নির্ধারণ করা হয়েছে। যারা আগেই কাজ সম্পন্ন করেছেন, তাদের কোনো সমস্যা হবে না।”
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরিকল্পনা করা হবে।