উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে জানাজা, শোকযাত্রা ও দাফনের আয়োজন ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে। একই সময়ে ইরাকেও বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা পালিত হবে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, শুক্রবার প্রথম দিনের কর্মসূচিতে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে বিদেশি অতিথিরা খামেনির কফিনে শ্রদ্ধা জানান। সেখানে তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি শোক প্রকাশ করা হয়। বাইরে সমবেত সমর্থকদের কান্না ও শোকাহত অবস্থাও দেখা গেছে।
[caption id="attachment_5965" align="alignnone" width="1007"]
তেহরানে গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সের সামনে সমর্থকদের একাংশ। ছবি: এএফপি[/caption]
পরবর্তী সূচি অনুযায়ী, শনিবার সাধারণ মানুষ প্রয়াত নেতাকে শেষ বিদায় জানাবেন। রোববার অনুষ্ঠিত হবে জানাজা ও বিশেষ দোয়া। সোমবার শোকযাত্রা আয়োজন করা হবে। মঙ্গলবার কোম শহরে শিয়াদের অংশগ্রহণে বৃহৎ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার কফিন ইরাকে নেওয়া হবে, যেখানে নাজাফ ও কারবালায় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বৃহস্পতিবার ইরানের মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে।
সরকারি সূত্র বলছে, এই সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচি ইরানের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও জাতীয় আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিপুল জনসমাগমের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় আনুগত্যের প্রকাশ ঘটাতে চাইছে কর্তৃপক্ষ।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, আইআরজিসির শীর্ষ কর্মকর্তাসহ বিদেশি অতিথিরা গ্র্যান্ড মোসাল্লায় কফিনের সামনে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।
তবে বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এই শোক কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঐক্যের আড়ালে দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা এবং জনসমর্থনের দুর্বলতার ইঙ্গিতও রয়েছে।
[caption id="attachment_5969" align="alignnone" width="969"]
আলী খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে প্রথমবারের মতো (যুদ্ধ শুরুর পর) জনসম্মুখে আসেন আইআরজিসির প্রধান আহমেদ ভাহিদি। ছবি: এএফপি[/caption]
দশকের পর দশক ধরে চলা অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে অনেক নাগরিকের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসন পুরো শোক কর্মসূচিকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে এবং লাখো মানুষের সমাগম নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিবহন ও ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।