উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন দল আন্দোলনে থাকলেও বিএনপি শুরু থেকেই দল নিষিদ্ধের বদলে বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের পরবর্তী সময়ে আইনি কাঠামো বহাল রেখে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল। এতে প্রশ্ন উঠেছে—আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে আসলে বিএনপির প্রকৃত অবস্থান কী?
২০২৫ সালের ১১ মে ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯’ সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করে। এর পরদিন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়, তবে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ হয়নি।
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল ওই অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাস হয়, যেখানে আগের বিধান বহাল রাখা হয়।
নির্বাচনের আগে বিএনপি বারবার বলেছে, তারা কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের পক্ষে নয়। বরং অপরাধের বিচার হওয়া উচিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা বলেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত ঐকমত্যের ভিত্তিতে।
সরকার গঠনের পর বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা আওয়ামী লীগ প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ আর রাজনীতি করতে পারবে না এবং আইনি কাঠামোর মধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে পুনর্গঠিত হলে তা বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল রাখার কৌশল নেওয়া হতে পারে।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বিএনপি মনে করে আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে, তাই রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। এতে ভবিষ্যতে কোনো আইনি বিতর্ক থাকবে না।