উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা জুয়েল শিকদারের বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের উৎস নিয়ে এলাকাবাসী ও বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ঘুষ, অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার না করলেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, জুয়েল শিকদার ২০১০ সালে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকরিজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ সময় একই কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত থাকাকালে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর, তাঁর স্ত্রী এবং নিকটাত্মীয়দের নামে বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট ও জমি রয়েছে। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার কোনাপাড়ায় ছয় কাঠা জমির ওপর তিনতলা বাড়ি, ডেমরা এলাকায় একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট, মুন্সীগঞ্জ শহরে একটি ফ্ল্যাট এবং গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমির তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া কুমিল্লার মেঘনা এলাকায় জমি-সংক্রান্ত একটি লেনদেন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, স্ত্রী ও সন্তানদের নামে একাধিক ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেওয়া, আত্মীয়স্বজনকে প্রভাব খাটিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়া এবং দাপ্তরিক প্রভাব ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, নিজ এলাকায় বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে অনুদান এবং নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে তিনি প্রভাব বিস্তার করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এই প্রতিবেদনের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, একজন সরকারি কর্মচারীর আয়-ব্যয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। তাঁদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া দরকার।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শ্রীনগর উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা জুয়েল শিকদারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "যে পত্রিকায় আমার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তাদের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে। আপনাদের এ বিষয়ে কিছু বলব না।" এরপর তিনি আর কোনো মন্তব্য না করে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা দুর্নীতি দমন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত শুরু করেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর একাংশ অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এটি একটি চলমান অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব। প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নতুন বক্তব্য, নথি বা তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী পর্বে তা প্রকাশ করা হবে।