উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বাংলাদেশে প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠনের পাঁচ মাস পার হলেও এখনো এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে যে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে তা বর্তমানে অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গঠিত এই কাউন্সিলকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা হলেও কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় সংস্কার উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে জুলাই সনদ তৈরি করা হয়। এতে রাষ্ট্র পরিচালনা ও সাংবিধানিক কাঠামোতে বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা চালু, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মতো বিষয়।
জানা গেছে, একাধিক রাজনৈতিক দল এই সংস্কার প্রস্তাবের সঙ্গে একমত হয়। পরবর্তীতে গণভোটে জনগণের মতামত নেওয়া হয় এবং সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত সংসদকে সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।
সংস্কার কাউন্সিলের আইনগত ভিত্তি নিয়ে শুরু থেকেই রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদ্যমান সংবিধানে সংসদের স্বীকৃতি রয়েছে, তবে আলাদা সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিলের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বিধান নেই। দলটির মতে, আগে আইনগত কাঠামো নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদারের মতে, জনগণের গণভোটের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ার বৈধতা এসেছে। তার বক্তব্য, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ এবং জনগণের সিদ্ধান্তই সংস্কারের মূল ভিত্তি।
সংস্কার কাউন্সিলের কার্যক্রম শুরু না হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে সদস্যদের শপথ গ্রহণ নিয়ে বিরোধকে উল্লেখ করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির সংসদ সদস্যরা সাধারণ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংস্কার কাউন্সিলের জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত শপথ গ্রহণ করেননি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যরা উভয় শপথ গ্রহণ করেছেন।
ফলে কাউন্সিলের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা সম্ভব হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার প্রক্রিয়া আটকে থাকলে জনগণের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে বিচার বিভাগ, মানবাধিকার সুরক্ষা, দুর্নীতি দমন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিয়ে যেসব সংস্কারের আলোচনা হয়েছে, সেগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়া বড় ধরনের সাংবিধানিক পরিবর্তন বাস্তবায়ন কঠিন।
সরকারের পক্ষ থেকে সাংবিধানিক সংশোধনী আনার মাধ্যমে সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাব সংস্কার বাস্তবায়নের গতিকে প্রভাবিত করতে পারে।
এদিকে সংস্কার কাউন্সিলের বৈধতা নিয়ে আইনি বিষয়ও সামনে রয়েছে। ফলে জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে রাজনৈতিক সমঝোতা, সংসদীয় সিদ্ধান্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ার ওপর।
দৈনিক টারমিগান-এর বিশ্লেষণ: সংবিধান সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং জনগণের প্রত্যাশার সমন্বয়ই হতে পারে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক কাঠামোর অন্যতম নির্ধারক।