উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নাটোরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার দাবি; পারিবারিক সংকটে অফিসেই বসবাস শুরু জাহিদুল ইসলামের
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর ইউনিয়নে বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার দলীয় কার্যালয়ে বসবাসের ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। পারিবারিক সংকট ও স্থায়ী আবাসনের অভাবে তিনি প্রায় দুই মাস ধরে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়েই থাকছেন বলে জানিয়েছেন।
জাহিদুল ইসলাম অমি (৩৬) মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি উপজেলার বাঁশিলা গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কৈশোর থেকেই তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। গত প্রায় ১৭ বছরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও মামলার মুখোমুখি হয়েছেন বলেও তারা দাবি করেন।
জাহিদুল ইসলামের দাবি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার কারণে পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান এবং পরে তাকে তালাকের নোটিশও পাঠান। তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাবা-মায়ের বাড়িতেও তার থাকার সুযোগ নেই।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন বিভিন্ন পরিচিত ব্যক্তির বাড়িতে রাত কাটানোর পর সেখানে আশ্রয় পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। পরে তিনি নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে মাধনগর ইউনিয়নের বাঁশিলা ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে ওঠেন। বর্তমানে একটি কাঠের চৌকিতে দলীয় কার্যালয়ের এক কোণেই তার বসবাস।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাহিদুল ইসলাম বলেন, রাজনীতি তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন ধরনের কাজ করলেও দিনের বাকি সময় তিনি দলীয় কার্যালয়েই কাটান।
তিনি বলেন, যদি সংগঠনের নেতারা অনুমতি দেন, তাহলে আপাতত সেখানেই থাকতে চান। ভবিষ্যতে কেউ সহযোগিতা করলে একটি ছোট ঘরের ব্যবস্থা করারও আশা প্রকাশ করেন।
মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি রায়হান মিয়া বলেন, জাহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং নির্বাচনী প্রচারণায় গান গেয়েও ভূমিকা রেখেছেন। তবে তার বর্তমান পরিস্থিতিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আপাতত তাকে দলীয় কার্যালয়ে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। জেলা নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তার জন্য বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।
নাটোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সানোয়ার হোসেন তুষার জানান, বিষয়টি উপজেলা নেতাদের মাধ্যমে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।