উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ভারতে অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মানবাধিকারকর্মী জাসবন্ত সিং খালরার জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘সাতলুজ’ (Satluj)। তবে নিষেধাজ্ঞার পরও পাঞ্জাবের বিভিন্ন গ্রামে স্থানীয় উদ্যোগে ছবিটির প্রদর্শনী চলছে বলে জানা গেছে।
পরিচালক হানি ত্রেহানের নির্মিত চলচ্চিত্রটি গত ৩ জুলাই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি৫ (ZEE5)-এ মুক্তি পায়। মুক্তির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি ভারতের ক্যাটালগ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্ল্যাটফর্মে এ বিষয়ে শুধু ‘বর্তমান পরিস্থিতি’র কথা উল্লেখ করা হলেও অপসারণের নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।
ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারার আওতায় চলচ্চিত্রটি সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি আদেশ প্রকাশ করা হয়নি।
চলচ্চিত্রটি শুরু থেকেই নানা বিতর্কের মুখে পড়ে। প্রথমে এর নাম ছিল ‘ঘাল্লুঘারা’ (Ghallughara)। পরে নাম পরিবর্তন করে ‘পাঞ্জাব ’৯৫’ (Punjab ’95) রাখা হয়। ২০২২ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র প্রত্যয়ন বোর্ড (সিবিএফসি) ছবিটিতে ১২৭টি কাটের সুপারিশ করেছিল বলে জানা যায়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকেও ছবিটি প্রত্যাহার করা হয়।
জনপ্রিয় পাঞ্জাবি অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ চলচ্চিত্রটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি আগে জানিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত যে সংস্করণটি মুক্তি পেয়েছিল, সেটিতে কোনো কাটছাঁট করা হয়নি।
চলচ্চিত্রটি মানবাধিকারকর্মী জাসবন্ত সিং খালরার জীবনের ওপর নির্মিত। ১৯৯০-এর দশকে পাঞ্জাবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। তার অনুসন্ধানে বহু অজ্ঞাত মরদেহের দাহসংক্রান্ত সরকারি নথি সামনে আসে। ১৯৯৫ সালে তিনি অপহৃত ও নিহত হন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে এ ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে আদালত দোষী সাব্যস্ত করেন।
ভারতে অনলাইনে ছবিটি দেখা না গেলেও পাঞ্জাবের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ স্থানীয়ভাবে একত্রিত হয়ে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের আয়োজন করছেন। বিষয়টি দেশটিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সেন্সরশিপ এবং ইতিহাসভিত্তিক চলচ্চিত্রের স্বাধীন প্রদর্শন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।