দেশের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করা শহীদ সৈনিক মো. আবু হানিফার আত্মত্যাগের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার মুখে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে তিনি দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের নজির স্থাপন করেন।
২০২৪ সালের ১০ জুলাই বান্দরবান জেলার তমালপাড়া সেনা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকালে কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ) সদস্যদের আকস্মিক হামলার শিকার হন সৈনিক আবু হানিফা। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হলে দ্রুত হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, আবু হানিফা পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। দেশের সার্বভৌমত্ব, শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত এই তরুণ সেনাসদস্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র তৎপরতা মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে অনেক সেনা সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।
শহীদ সৈনিক মো. আবু হানিফার আত্মত্যাগ শুধু সেনাবাহিনীর সদস্যদের জন্য নয়, দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছেও দায়িত্ব, সাহস ও দেশপ্রেমের অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেন, দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী প্রতিটি সৈনিকের আত্মত্যাগ জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।