উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাস্টবিন-সংলগ্ন স্থান থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া সেই কন্যা নবজাতকের বৈধ অভিভাবকত্ব পেয়েছেন ১১ বছর ধরে নিঃসন্তান দম্পতি রবিউল ইসলাম ও সুমাইয়া আক্তার।
শিশুটির ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তার নামে ১০ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রবিউল ইসলাম। পাশাপাশি আইনগতভাবে নিজের উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সম্পত্তির প্রাপ্য অংশ দেওয়ার অঙ্গীকারও করেছেন তিনি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুন গভীর রাতে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাস্টবিন-সংলগ্ন স্থান থেকে জীবিত অবস্থায় এক কন্যা নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এরপর নবজাতকের চিকিৎসা, নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করে।
গত ৬ জুলাই জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভায় নবজাতকের বৈধ অভিভাবকত্ব প্রদান বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে ৯ জুলাই বোর্ডের সদস্যদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে শিশুটির সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনা করে গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের লক্ষীপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম ও সুমাইয়া আক্তার দম্পতির কাছে বৈধ অভিভাবকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সামাজিক তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ১১ বছর আগে বিয়ে হলেও রবিউল-সুমাইয়া দম্পতির কোনো সন্তান হয়নি। সন্তান লাভের আশায় তারা প্রায় পাঁচ বছর ধরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন। অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হলেও তাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রবিউল ইসলাম পেশায় একজন রংয়ের ঠিকাদার। তাঁর বার্ষিক আনুমানিক আয় প্রায় ৬ লাখ টাকা। তাঁর বাবার একটি মুদি দোকান রয়েছে, যা পরিবারের অতিরিক্ত আয়ের উৎস।
অন্যদিকে সুমাইয়ার বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত আনসার সদস্য। ভবেরচর হাসপাতালের সামনে তাদের পরিবারের চারটি দোকান রয়েছে, যেখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২৭ হাজার টাকা ভাড়া আসে। উভয় পরিবারের আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তকালে রবিউল ইসলাম জানান, শিশুটির ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে তিনি তার নামে ১০ লাখ টাকার এফডিআর করবেন। পাশাপাশি বৈধ অভিভাবকত্ব পাওয়ার পর শিশুটিকে নিজের উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আইন অনুযায়ী সম্পত্তির অংশ প্রদান করবেন।
এ ছাড়া শিশুটির চিকিৎসা, শিক্ষা ও ভরণ-পোষণের যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নবজাতক উদ্ধারের পর থেকেই রবিউল-সুমাইয়া দম্পতি শিশুটির পাশে রয়েছেন। বিশেষ করে সুমাইয়া আক্তার উদ্ধারের দিন থেকে হাসপাতালেই অবস্থান করছেন এবং একবারের জন্যও বাড়িতে যাননি। শিশুটির প্রতি তাঁর মমত্ববোধ ও নিরলস সেবাযত্ন তদন্ত প্রতিবেদনে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
বর্তমানে শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মাথায় গুরুতর আঘাত পেলেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, আরও ৪ থেকে ৫ দিন পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে।