উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বাংলাদেশে নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ, কৃষি ও জনজীবনের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ বিভিন্ন নদীতে অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে নদীভাঙন, ফসলি জমি হারিয়ে যাওয়া এবং বসতি হুমকির মুখে পড়ার ঘটনা নিয়মিতই আলোচনায় এসেছে।
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মেঘনা নদীর চরাঞ্চলেও দীর্ঘদিন ধরে একই চিত্র দেখা গেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সরেজমিন পরিদর্শন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলা এবং প্রশাসনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।
চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের ভাষ্য, গত কয়েক দশক ধরে অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে এবং বহু তিন ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অনেক কৃষক জমি হারিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা জসীম বলেন, "আগে প্রায়ই নদীতে ড্রেজারের শব্দ শোনা যেত। এখন পরিস্থিতি অনেক শান্ত। আমরা চাই, এই অবস্থা স্থায়ী হোক।"
বকচর এলাকার বাসিন্দা মো. আউয়াল বলেন, "এবার অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে আমাদের এলাকার আরও অনেক জমি নদীতে চলে যেত। এখন মানুষ স্বস্তি অনুভব করছে।"
স্থানীয়দের অনেকেই দাবি করেন, মুন্সীগঞ্জ সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন নির্বাচনের আগে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের অঙ্গীকার করেছিলেন। তাঁদের মতে, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এমপি মো. কামরুজ্জামান রতন বলেন, "যে কাজ কেউ পারেনি, সে কাজ আমরা করে দেখিয়েছি। মুন্সীগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করেছি।"
তিনি এ জন্য জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।
মুন্সীগঞ্জেও অতীতে বিভিন্ন সময়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে বৈধ ইজারার সীমার বাইরে গিয়ে বালু উত্তোলন এবং ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি বা চূড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সাময়িক অভিযান যথেষ্ট নয়। দীর্ঘমেয়াদে নদী রক্ষায় কার্যকর নজরদারি, ইজারা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, আইন প্রয়োগ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
সরেজমিনে দেখা যায়, চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে অন্তত বর্তমানে একটি স্বস্তির অনুভূতি কাজ করছে। তবে এই পরিস্থিতি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে প্রশাসনের ধারাবাহিক নজরদারি এবং আইন প্রয়োগের ওপর।