উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলটির সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এবার তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ধাপে ধাপে নেতৃত্ব নির্বাচনের নতুন প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা জানান, জাতীয় কাউন্সিলের নির্দিষ্ট তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে বছরের শেষ নাগাদ সাংগঠনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে শীত মৌসুমে, সম্ভাব্য ডিসেম্বর মাসেই কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু হয়ে ইউনিয়ন, থানা এবং জেলা পর্যায় অতিক্রম করে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে পৌঁছাবে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেন্দ্র থেকে মনোনয়ননির্ভর নেতৃত্ব বাছাইয়ের পরিবর্তে তৃণমূলের ভোট ও কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা নেতারা থানা কমিটি গঠনের তদারকি করবেন। থানা কমিটি ইউনিয়ন কমিটি এবং ইউনিয়ন কমিটি ওয়ার্ড কমিটি গঠনের দায়িত্ব পালন করবে। নিম্নস্তরের সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পরই কেন্দ্রীয় জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে সাংগঠনিক পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি মনিটরিং ও ডিজাইন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দুই থেকে চার সদস্যের একটি ছোট দল কাজ শুরু করবে, পরে তা সম্প্রসারণ করা হবে।
দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা, বিশেষ করে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভাইস চেয়ারম্যানরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফর করে সাংগঠনিক কার্যক্রম তদারকি করবেন এবং জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করবেন।
জাতীয় কাউন্সিলের তফসিল ঘোষণার পর গঠনতন্ত্র সংশোধনের সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি কমিটিসহ প্রচার, যোগাযোগ ও অভ্যর্থনাসহ বিভিন্ন উপকমিটি গঠন করা হবে।
একই সঙ্গে বিএনপির সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনগুলোও একই তৃণমূলভিত্তিক পদ্ধতিতে পুনর্গঠন করা হবে। এসব সংগঠনের স্থায়ী নেতৃত্বও তৃণমূল পর্যায়ের কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে।
বৈঠকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়। দলীয় নেতারা জানান, নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার ওপর নির্ভর করে বিএনপির প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক ছাড়াই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে বিষয়টি এখনও আলোচনাধীন।
এ ছাড়া দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি, ত্রাণ কার্যক্রম, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, বিদ্যুৎ সংকট এবং মাদকদ্রব্যের বিস্তারসহ বিভিন্ন জাতীয় বিষয়ও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।