উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের মিজিকান্দি এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, দেশীয় অস্ত্রের মহড়া এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বৃষ্টির মধ্যেই সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের মিজিকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেওয়ানকান্দি এলাকার সরাবেশ সরকার এবং বোরহান মিঝি ও তাঁর ছেলে জাহাঙ্গীর মিঝির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে রোববার সকালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সময় কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন আলমগির ব্যাপারী, রবিন ব্যাপারী, দুলাল ব্যাপারী, সাব্বির ব্যাপারী, আকতার ব্যাপারী ও দিলা দেওয়ানসহ অন্তত আটজন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে গুরুতর আহত রবিন ব্যাপারী ও দুলাল ব্যাপারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সরাফত আলী অভিযোগ করেন, জমি দখলকে কেন্দ্র করে বোরহান মিঝি ও তাঁর সমর্থকরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. রুহুল আমিন জানান, আহতদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় এক পক্ষ কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছে। ইতোমধ্যে একজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তবে সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণ ও অস্ত্রের মহড়ার অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।