উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মধ্যপ্রাচ্যের নতুন করে অস্থিরতায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি নিয়ে উদ্বেগে পড়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও এলএনজির দাম আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে সরকারের ভর্তুকির চাপ ও আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেল ও এলএনজি কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে সরকার প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকার লোকসান বহন করেছে। এর মধ্যে শুধু জ্বালানি তেল আমদানিতেই বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ে। বাকি লোকসান হয়েছে এলএনজি আমদানিতে।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পদ্ধতিতে ১৬ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। সরবরাহকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনায় উন্মুক্ত দরপত্রের তুলনায় কম প্রিমিয়ামে তেল সরবরাহে সমঝোতা হয়েছে। এতে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা পরিবহন ব্যয় বা প্রিমিয়াম সাশ্রয়ের আশা করছে সরকার।
অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গত মার্চের পর থেকে কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করছে না। ফলে বর্তমানে স্পট মার্কেট থেকেই এলএনজি সংগ্রহ করছে পেট্রোবাংলা। হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে স্পট মার্কেটে এলএনজির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) একেএম মিজানুর রহমান বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও এলএনজির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। এতে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় বাড়বে। গত মাসে যুদ্ধবিরতির কারণে এলএনজির দাম কমলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারের গতিপ্রকৃতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে স্পট মার্কেট থেকে প্রতি ইউনিট এলএনজি ২৮ ডলারে কিনতে হলেও গত সপ্তাহে একই এলএনজি ১৬ থেকে ১৭ ডলারে কেনা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে, গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ৭৬ দশমিক ১০ ডলার। যুদ্ধের সময় এ দাম ১১৪ ডলারেরও বেশি উঠেছিল।
বিপিসি সূত্র জানিয়েছে, জি-টু-জি পদ্ধতিতে ১৬ লাখ টন ডিজেল, অকটেন, ফার্নেস অয়েল ও জেট ফুয়েল কেনার প্রস্তাব ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। এখন তা ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। আন্তর্জাতিক বাজারদরের ওপর নির্ভর করে এ আমদানিতে সরকারের ব্যয় ১৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।
এদিকে বিপিসির মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক রয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটির ডিপোতে প্রায় ৪ লাখ ১৪ হাজার টন ডিজেল মজুত রয়েছে, যা দিয়ে প্রায় ৩৪ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব। অকটেনের মজুতও প্রায় ৪০ দিনের জন্য পর্যাপ্ত বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। চলতি মাসে আরও কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ডিপোগুলোকে সতর্ক রাখা হয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে আগামী দিনের জ্বালানি বাজার ও সরকারের ব্যয়।