উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, উন্নয়ন বলতে শুধু রাস্তা-ঘাট বা অবকাঠামো নির্মাণকে বোঝায় না; স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিশু চিকিৎসা, খাল খনন এবং মানুষের জীবনমানের উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনায় দেশের প্রায় সব খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একের পর এক কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, জনগণ জানে সরকার কোন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছে। ব্যাংকিং খাত দুর্বল হয়ে পড়েছিল, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল এবং উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসাসেবার অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। একইভাবে শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতির কারণে দেশের শিক্ষাগত সনদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি হওয়া দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার ফল। এসব সংকটের মূল কারণ ছিল জবাবদিহির অভাব।
তিনি বলেন, নিয়মিত ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়ার কথা থাকলেও গত ১৭ বছরে সেই ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছিল।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে এবং কৃষক কার্ড কার্যক্রমও চালু করা হয়েছে। পরিকল্পনা থাকায় দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায় এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়।
উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ের ৫১ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সারা দেশে এক হাজার শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা দেশের বড় সমস্যাগুলোর একটি। শুধু ফ্লাইওভার নির্মাণ করলেই উন্নয়ন হয় না; খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় নির্যাতন, মামলা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও নেতাকর্মীরা দলকে ধরে রেখেছেন। এখন ঐক্য আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দলে হাইব্রিড বা অনুপ্রবেশকারীদের কোনো জায়গা দেওয়া যাবে না। তৃণমূল নেতাকর্মীদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে। তবে তার আগে সাংগঠনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।
তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন দলকে সময় দিয়েছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করেই দল এগিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনপ্রিয়তার জন্য অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেওয়া যাবে না। যা সম্ভব নয়, তা বলা হবে না। দেশের বাস্তব সমস্যা বিবেচনা করেই জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
তিনি বলেন, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক শক্তিই বিএনপির সবচেয়ে বড় সম্পদ। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।