উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বাংলাদেশি পরিচয় ও দেশপ্রেম আমার কাছে আপসহীন। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এবং ভারতের কাছ থেকে আংশিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার কারণে ভারতের প্রতি আমার অনুভূতিও অস্বীকার করার নয়। তারপরও আমি দুই দেশের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ, পারস্পরিক সম্মান ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের প্রত্যাশা করি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রত্যাশা অনেকটাই অধরা মনে হচ্ছে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতায় অবিশ্বাসের একটি আবহ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই দেশের বিপরীতমুখী বয়ান দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
ভারত নিঃসন্দেহে একটি বড় দেশ। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক সময় এমন আচরণ দেখা গেছে, যা অনেকের কাছে সংকীর্ণ মানসিকতা ও আগ্রাসী মনোভাব হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক এবং নীতিনির্ধারণী মহলের আলোচনাতেও এমন ধারণার প্রতিফলন দেখা যায়।
লেখকের মতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দুই দেশের কাছে ভিন্ন অর্থ বহন করে। ভারতের দৃষ্টিতে এটি ছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করার একটি কৌশলগত সাফল্য; কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের কাছে এটি ছিল একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম, যে রাষ্ট্র নিজের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি নিজেই নির্ধারণ করবে।
দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য পারস্পরিক সম্মান, সমতা, স্বচ্ছতা এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন লেখক।
তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ ও ভারত ভৌগোলিকভাবে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী এবং উভয় দেশের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা অপরিহার্য।
তবে সেই সম্পর্ক টেকসই করতে হলে বাংলাদেশকে সমমর্যাদার অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে, কোনো অধীনস্থ রাষ্ট্র হিসেবে নয়।
লেখক: রাষ্ট্রদূত আশরাফ উদ দৌলা
প্রকাশ: দ্য গার্ডিয়ান (The Guardian)
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
অনুবাদ ও সম্পাদনা: দৈনিক টারমিগান