উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সাভারের আশুলিয়ায় সহিংসতার অভিযোগে আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল কাফির পাসপোর্ট ইস্যুর ঘটনায় নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের বিরুদ্ধে।
একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মাত্র ৯ দিনের ব্যবধানে আব্দুল্লাহিল কাফির নামে তিনটি পৃথক পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তার প্রকৃত পরিচয় গোপন করে বিকল্প পরিচয়ে নথিপত্র প্রস্তুতের মাধ্যমে পাসপোর্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ কাজে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের উপপরিচালক ইসমাইল হোসেনের ভূমিকা ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসমাইল হোসেনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ২৩ আগস্টের মধ্যে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস থেকে আব্দুল্লাহিল কাফির নামে তিনটি পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৫ আগস্ট একটি আবেদন জমা দেওয়ার পর ২০ আগস্ট প্রথম পাসপোর্ট ইস্যু হয়। এরপর দ্বিতীয় আবেদনের ভিত্তিতে ২১ আগস্ট আরেকটি পাসপোর্ট তৈরি করা হয়। পরে তৃতীয় আবেদনের মাধ্যমে ২৩ আগস্ট আরও একটি পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পাসপোর্ট ব্যবহার করে ২ সেপ্টেম্বর বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করলে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হন আব্দুল্লাহিল কাফি।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে থাকা সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও তার স্বামী এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শিরীন শারমিন চৌধুরী ও তার স্বামীর ক্ষেত্রে ‘মোবাইল এনরোলমেন্ট’ ব্যবস্থার মাধ্যমে ছবি সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়।
প্রতিবেদনে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের উপপরিচালক ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার, বদলি ও তদবির বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া তার সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্তের তথ্য বা ইসমাইল হোসেনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার পিএস-এর কাছে প্রশ্ন রেখে যান, পরে উত্তর দেব।”
পরে তার পিএসের কাছে লিখিত প্রশ্ন দেওয়া হলেও কোনো প্রাপ্তি স্বীকারপত্র দেওয়া হয়নি এবং আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাসপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি ইস্যুতে কোনো অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। এতে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।