উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে টানা অষ্টম রাত ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় মার্কিন হামলা চালানো হলো। এর মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, রোববার ভোরে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, সামুদ্রিক সক্ষমতা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালানো ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সক্ষমতা দুর্বল করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সেতু, রেললাইন, টানেল, বিমানবন্দর ও সড়ক রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আইআরজিসির সক্ষমতা কমাতে চাইলেও এসব স্থাপনার অনেকগুলোই বেসামরিক ব্যবহারের আওতায় পড়ে।
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বান্দার আব্বাস, কিশ দ্বীপ ও কেশম দ্বীপের আশপাশে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।
ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, কুয়েতে দুটি মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাম্প আল-আদিরির গোলাবারুদ গুদাম এবং আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার ছিল।
কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।
অন্যদিকে বাহরাইনে বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, জর্ডানে মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা “অত্যন্ত দুঃখজনক”।
তিনি বলেন, “আমরা কখনোই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেব না।”
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান ও তার মিত্রদের কাছ থেকে ওয়াশিংটন “ভুলে যাওয়ার মতো নয় এমন শিক্ষা” পাবে।
তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক (MoU) বারবার লঙ্ঘন করেছে।
ইরানের কাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি বলেছেন, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব “দৃঢ় ও ধ্বংসাত্মকভাবে” দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে হরমুজ প্রণালী, জ্বালানি সরবরাহ ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।