উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশত্যাগের সময় শেখ হাসিনার গন্তব্য নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদুল আনাম খান এক মতামত নিবন্ধে প্রশ্ন তুলেছেন, শেখ হাসিনা কীভাবে গোপালগঞ্জ যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন, যেখানে কোনো বিমানবন্দর নেই।
‘হাসিনা, গোপালগঞ্জে তো কোনো বিমানবন্দর নেই’ শিরোনামের ওই নিবন্ধে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগপন্থী বিভিন্ন মহল শেখ হাসিনার দেশত্যাগ, জুলাই ২০২৪-এর আন্দোলন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ভিন্ন বয়ান তৈরি করার চেষ্টা করছে।
নিবন্ধে লেখক অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ভিডিও, পুলিশের অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা এবং আন্দোলন দমনের ঘটনা নিয়েও আওয়ামী লীগের বক্তব্যের সমালোচনা করেন।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগ প্রসঙ্গে লেখক ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট দেওয়া বক্তব্যের উল্লেখ করেন। জয়শঙ্কর ভারতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর শেখ হাসিনা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং স্বল্প সময়ের জন্য ভারতে আসার অনুমতি চান।
নিবন্ধে বলা হয়, শেখ হাসিনা তার সমর্থকদের সঙ্গে কথোপকথনে দাবি করেছেন, তিনি জানতেন না যে তাকে ভারতে নেওয়া হচ্ছে এবং তার ধারণা ছিল তিনি গোপালগঞ্জ যাচ্ছেন। লেখক এই দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি আরও লিখেছেন, শেখ হাসিনার ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ঘোষণা এবং সাম্প্রতিক বক্তব্য রাজনৈতিক কৌশলের অংশ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তবে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ এবং তাদের সমর্থকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে দাবি করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জুলাই আন্দোলন ও পরবর্তী ঘটনাবলি নিয়ে এখনো বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদুল আনাম খান বর্তমানে দ্য ডেল্টাগ্রামের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সূত্র: দ্য ডেল্টাগ্রাম (মতামত নিবন্ধ)