উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, নিট পরীক্ষায় অনিয়ম ও শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রতিবাদে ভারতের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়ছে। রোববার নয়াদিল্লিতে পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের কিছু ব্যক্তিকেও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীরাও হামলার শিকার হয়েছেন বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন।
দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় আয়োজিত এই বিক্ষোভে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যারিকেড বসায়। আন্দোলনকারীরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরে ওই এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
শিক্ষা সংস্কার ও নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার কলকাতায় প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলকাতা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা দিল্লির আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রতীকী অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এ ছাড়া কর্নাটক, আসাম, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান ও উত্তরপ্রদেশেও বিক্ষোভ হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের বারানসিতে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন।
আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যখন শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তখন তাদের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে জেন-জি আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলী আংমো। এর আগে অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। তিনি হাসপাতাল থেকে লেখা এক চিঠিতে নিজেকে ‘অবৈধভাবে আটক’ রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, শিক্ষা সংস্কার, শিক্ষার্থীদের অধিকার এবং পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতার দাবিতে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।