উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ইলিশের জন্য খ্যাত চাঁদপুরের বড় স্টেশন মাছঘাটে এবার ভরা মৌসুমে দেখা মিলছে বড় আকারের নদীর পাঙাশের। পদ্মা-মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে প্রচুর পাঙাশ ধরা পড়ায় মাছঘাটে এর সরবরাহ ও বিক্রি বেড়েছে।
মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, ইলিশের সরবরাহ তুলনামূলক কম এবং দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতা এখন বিকল্প হিসেবে পাঙাশ কিনছেন। ফলে চাঁদপুর মাছঘাটে পাঙাশের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বর্তমানে মাছঘাটের বিভিন্ন আড়তে ৮ থেকে ২০ কেজি ওজনের বড় বড় পাঙাশ দেখা যাচ্ছে। আকারভেদে প্রতি কেজি পাঙাশ ৩৫০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
পাঙাশ ব্যবসায়ী মো. হাসান বলেন, কয়েক দিন ধরে নদীতে পাঙাশ বেশি ধরা পড়ছে। ইলিশ কম থাকায় ক্রেতারাও পাঙাশের দিকে ঝুঁকছেন এবং প্রতিদিন ভালো বিক্রি হচ্ছে।
আরেক ব্যবসায়ী নবীর হোসেন জানান, ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় ব্যবসায় কিছুটা প্রভাব পড়লেও পাঙাশ বিক্রি সেই ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে দিচ্ছে।
চাঁদপুর শহরের বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদের বলেন, ইলিশের দাম বেশি হওয়ায় তিনি একই টাকায় বড় একটি পাঙাশ কিনেছেন।
আড়তদারদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১,৩০০ টাকা, ৬০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১,৭০০ থেকে ২,১০০ টাকা এবং এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ ২,৩০০ থেকে ২,৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, বড় পাঙাশ ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকা, মাঝারি পাঙাশ ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং ছোট পাঙাশ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, পদ্মা-মেঘনায় পাঙাশ বেশি ধরা পড়া নদীর জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদের জন্য ইতিবাচক লক্ষণ। এতে জেলেরা ইলিশের পাশাপাশি অন্য মাছ বিক্রি করেও আয় করতে পারছেন। তবে ভবিষ্যতে উৎপাদন ধরে রাখতে ছোট ও অপরিপক্ব পাঙাশ ধরা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।