উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইন অনুযায়ী হবে। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সম্পূর্ণ আলাদা এবং সে তদন্ত চলমান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মোজাফফর হোসেন দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি একাধিক দেশে অবাধে যাতায়াত করেছেন এবং বাংলাদেশেও নির্বিঘ্নে অবস্থান করেছেন। তার দাবি, সে সময় তিনি টেলিফোনে তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং রাজধানীর অভিজাত এলাকায় বসবাস করতেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, এসব তথ্য থেকে ধারণা করা যায় যে, তৎকালীন সরকারের প্রশ্রয় বা সংশ্লিষ্টতা ছাড়া এ ধরনের কর্মকাণ্ড সম্ভব ছিল না। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের সময়ে মোজাফফর হোসেনের কী ধরনের সংশ্লিষ্টতা ছিল এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে তার কোনো ভূমিকা ছিল কি না, সেটিই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে তার সম্পর্কও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করেন, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার বিচার সেনা আইনে পরিচালিত হবে এবং সেই বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্তের প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীর হেফাজত থেকে তাকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে।
এর আগে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে দুই দিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতিও দেওয়া হয়।
প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করে প্রসিকিউশন। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।