প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষকদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী: নিজের স্কুলে সন্তান না পড়ালে অন্যরা কেন পড়াবে?
শিক্ষকদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন,
"নিজ সন্তানকে যদি নিজ প্রতিষ্ঠানে পড়াতে না পারেন, তাহলে অন্যরা কেন তাদের সন্তান আপনাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করবে?" তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি আগে শিক্ষকদের নিজেদের আস্থা থাকতে হবে। তাহলেই অভিভাবকদের মধ্যেও সেই আস্থা তৈরি হবে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একসময় সরকারি বিদ্যালয়গুলোর প্রতি মানুষের ব্যাপক আস্থা ছিল। প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও নিজেদের সন্তান সরকারি বিদ্যালয়ে পড়াতেন। সেই ঐতিহ্য ও মান পুনরুদ্ধারে শিক্ষক, শিক্ষা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষা দিলেই হবে না। তাদের বিতর্কচর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে এবং এ খাতে ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে বই সরবরাহ করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, ২০২৮ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে নতুন কারিকুলামের আওতায় নতুন পাঠ্যবই চালু করা হবে। পাঠ্যবইয়ে বাংলাদেশের সঠিক, নির্মোহ ও তথ্যভিত্তিক ইতিহাস স্থান পাবে। ইতিহাসে কোনো ধরনের রাজনৈতিকীকরণ, প্রোপাগান্ডা বা বিকৃতি রাখা হবে না।
তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি বাস্তব ঘটনা। পাঠ্যবইয়ে এ বিষয়ে তথ্যভিত্তিক উপস্থাপন থাকবে। তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ওপর রাজনৈতিক দায় চাপিয়ে ইতিহাস বিকৃত করা হবে না।
মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আলহাজ্ব খোরশেদ আলম মান্নানের সভাপতিত্বে এবং সাচার ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ নওশির আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু নাসির, পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফজলুল হক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. খায়রুল আবেদীন স্বপন, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ এলাহী সুভাষ এবং কচুয়া থানার ওসি মো. আজিজুল ইসলাম।
মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের উদ্যোগে আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক এবং শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। বক্তারা শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়ন এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষার্থী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক: মিরাজ হোসেন সুজন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।