উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মাদক ও অস্ত্র পাচারের মামলায় যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমা ঘোষণার পর দীর্ঘদিন পর নিজ দেশে ফিরেছেন তিনি।
রোববার (২৬ জুলাই) ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি বিমানে করে হন্ডুরাসের রাজধানী তেগুসিগালপা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত পালমেরোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান হার্নান্দেজ।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরের রানওয়েতে তাকে স্বাগত জানান তার মা, স্ত্রী আনা গার্সিয়া, মেয়ে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
বিমানবন্দরে পৌঁছে হার্নান্দেজ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাঁটু গেড়ে প্রার্থনায় অংশ নেন। পরে তিনি বাসে করে তেগুসিগালপার তোনকোনতিন বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে উপস্থিত শত শত দলীয় সমর্থকের উদ্দেশে হাত নাড়েন তিনি।
২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট ছিলেন হার্নান্দেজ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তেগুসিগালপা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর দুই মাসের মধ্যে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করা হয়।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত মাদক ও অস্ত্র পাচারের মামলায় তাকে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন তিনি।
গত জুনে তার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিত করা হয়। ফলে দেশে ফেরার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আগামী ৩ আগস্ট জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৫৭ বছর বয়সী হার্নান্দেজ বলেন, নিজের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ বাতিলের জন্য তিনি আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দেশে ফেরার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, পরিবারের কাছে ফিরে আসার জন্য তিনি দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছেন। কারাগারের সময়কে অত্যন্ত কঠিন অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্পের ক্ষমা ঘোষণার বিষয়টি হন্ডুরাসের রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করেছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও বিশ্লেষকদের কেউ কেউ এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ক্ষমা হন্ডুরাসে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।
এদিকে ‘প্যানডোরা-২’ নামে পরিচিত দুর্নীতি তদন্তে হার্নান্দেজ ও কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে প্রায় ১১ মিলিয়ন ডলারের সরকারি অর্থ রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
হার্নান্দেজ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা তিনি পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে বর্তমানে তার প্রধান লক্ষ্য পরিবার ও আইনি বিষয়গুলো মোকাবিলা করা।
সূত্র: রয়টার্স