উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বিজ্ঞাপনের চুক্তির কথা বলে ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন অভিনেত্রী ও মডেল স্নিগ্ধা চৌধুরী। তার দাবি, আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া তাকে অন্য একজন নারী ভেবে মারধর ও নির্যাতন করেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তের বিচার দাবি করেছেন তিনি।
রোববার রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন স্নিগ্ধা চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে স্নিগ্ধা জানান, ইমন নামে এক ব্যক্তি প্রায় এক মাস ধরে তাকে আশিয়ান সিটির একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করার প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। পরে গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বিজ্ঞাপনের চুক্তির কথা বলে ইমন তাকে ও তার মাকে আশিয়ান সিটিতে নিয়ে যান।
স্নিগ্ধার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার কক্ষে যাওয়ার পর শুরুতে স্বাভাবিক কথাবার্তা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে পারিবারিক কারণে তার মা চলে গেলে পরিস্থিতি বদলে যায়।
স্নিগ্ধা অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে নজরুল ইসলাম তাকে বলেন, ‘তোকে তো আমি তিন মাস ধরে খুঁজতেছি।’ এরপর তিনি তাকে ‘জেবা তাকিয়া’ নামে একজন নারী ভেবে বিভিন্ন অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ওই সময় তাকে বলা হয়—‘তুই জেবা তাকিয়া না? তুই আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে সাত লাখ টাকার পর্দা কিনছিস।’ তবে স্নিগ্ধার দাবি, তিনি ওই নারী নন এবং ঘটনার দিনই প্রথম অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে তার দেখা হয়।
স্নিগ্ধা আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে ইমনকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। তার দাবি, পরে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, ইমন তাকে ‘জেবা তাকিয়া’ পরিচয়ে নজরুল ইসলামের সামনে উপস্থাপন করেছিলেন। পরে ইমন তাকে জানান, জেবা তাকিয়ার সঙ্গে নজরুল ইসলামের পূর্বপরিচয় ছিল।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্নিগ্ধা বলেন, তিনি কোনো অপরাধ না করেও অন্য একজন নারী ভেবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি যদি কোনো অন্যায় করে থাকি, যে শাস্তি দেবেন মাথা পেতে নেব। কিন্তু বিনা কারণে অন্য একজন মেয়ে ভেবে আমাকে কেন নির্যাতন করা হলো?”
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্নিগ্ধা চৌধুরী।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি দাবি করেছেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তার ভাষ্য, স্নিগ্ধাকে তিনি আগে থেকেই চিনতেন এবং বিষয়টি নিয়ে পরে কথা বলবেন।