উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ওএসডিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি ও মাগুরার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুনতাসির আহমেদ এ আদেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আজমত হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা। সোমবার ওই প্রতিবেদন গ্রহণ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে শুনানির সময় আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় আদালত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে মাগুরার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাদীর সঙ্গে জহিরুল ইসলামের পরিচয় হয়। পরে বিভিন্ন অজুহাতে তাকে কার্যালয়ে ডেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বাদীকে বিয়ে করার আশ্বাস দেন তিনি। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মাগুরার সরকারি বাংলোয় বাদীকে নাকফুল পরিয়ে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা প্রকাশ করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে একই বছরের ৮ মার্চ ঢাকার একটি হাসপাতালে বাদী অসুস্থ হয়ে ভর্তি হলে আসামি নিজেকে তার স্বামী পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাগুরার সরকারি বাংলো, অফিস রেস্টরুম ও ঢাকায় বাদীর বাসায় একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে আসামি পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি হওয়ার পরও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখেন। তবে ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে তিনি অস্বীকৃতি জানান এবং আইনগত ব্যবস্থা নিলে ক্ষতির হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই ভাটারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং পুলিশ সদর দপ্তরের আইজিপির কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হলে চলতি বছরের ২০ মে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে ১৪ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।