প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
মণিপুরে ফের তীব্র জাতিগত সংঘাত, পাহাড়ি জেলাগুলোতে গভীর হচ্ছে মানবিক সংকট
ভারতের মণিপুরে নাগা, কুকি ও জো সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে জাতিগত সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সহিংসতায় রাজ্যের পাহাড়ি জেলাগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট, স্বাস্থ্যসেবার অবনতি এবং মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে।
মণিপুরে সমতল অঞ্চলের মেইতেই সম্প্রদায়ের অধিকাংশই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। অন্যদিকে পাহাড়ি এলাকার কুকি, জো ও নাগা সম্প্রদায়ের বেশিরভাগই খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী। ভূমির মালিকানা, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও জাতিগত পরিচয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
২০২৩ সালের মে মাসে মেইতেই সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতি (Scheduled Tribe) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়। সেই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে বিভিন্ন ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাংখুল নাগা ও কুকি-জো জনগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর থেকে উত্তেজনা রাজ্যের প্রায় সব পাহাড়ি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ, জাতিগত অবিশ্বাস এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তাংখুল নাগা নেতাদের অভিযোগ, জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই সাম্প্রতিক সংঘাতের সূত্রপাত। অন্যদিকে কুকি নেতাদের দাবি, কুকি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চলমান শান্তি আলোচনা নিয়ে নাগা সম্প্রদায়ের উদ্বেগও উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
সংঘাতের প্রভাবে অনেক পাহাড়ি গ্রামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছানো ব্যাহত হচ্ছে। কুকি-অধ্যুষিত এলাকায় চাল, ওষুধ, গুঁড়ো দুধসহ প্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহে গুরুতর সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, পরিস্থিতি অনেকটা দীর্ঘস্থায়ী মানবিক দুর্যোগের রূপ নিয়েছে এবং সামনে সংকট আরও গভীর হতে পারে।
স্বাস্থ্য খাতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে রোগীর চাপ বেড়ে গেছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগী হাসপাতালের বারান্দা ও খোলা জায়গায় চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছেন। একই সঙ্গে টাইফয়েড, ডেঙ্গু এবং বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগের সংক্রমণও বাড়ছে।
মণিপুরের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন ত্রাণশিবির ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ৭৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পর্যাপ্ত পুষ্টি, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধার অভাবকে এসব মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কেবল নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করাই যথেষ্ট নয়; বরং সংশ্লিষ্ট সব সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ, আস্থা পুনর্গঠন এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
প্রকাশক ও সম্পাদক: মিরাজ হোসেন সুজন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।