প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ ডাকায় চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ, ঝালকাঠিতে তোলপাড়
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত এক চিকিৎসককে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ সম্বোধন করায় রোগীর স্বজনের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার জেরে চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের বোর্ড অফিস এলাকার বাসিন্দা তানভীর হাসান তার দুই বছর বয়সী সন্তান রুজায়াইনকে নিয়ে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান।
পরিবারের দাবি, বিড়ালের আঁচড়ে আহত হওয়ায় শিশুটিকে প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক দেওয়ার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
ভুক্তভোগী তানভীর হাসানের অভিযোগ, জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল ইসলামকে সালাম দিয়ে ‘ভাই’ সম্বোধন করে শিশুর বিষয়টি জানালে চিকিৎসক বলেন, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক নেই এবং বিকেলে আসতে হবে। পরে যোগাযোগের সুবিধার্থে চিকিৎসকের মোবাইল নম্বর চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
তানভীরের ভাষ্য, চিকিৎসক বলেন, ‘আপনি একজন বিসিএস ক্যাডারকে ভাই বলে ডাকেন, আবার ফোন নম্বর চান?’—এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাক্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে চিকিৎসক তাদের চিকিৎসা না দিয়েই হাসপাতাল থেকে চলে যেতে বলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রোগীর স্বজনকে বলতে শোনা যায়, ‘প্রথমে ঢুকেই আপনাকে সালাম দিলাম, এরপর ভাই বললাম। আপনি কোন গেজেটেড অফিসার যে আপনাকে ভাই বলা যাবে না?’ জবাবে চিকিৎসক বলেন, ‘আপনি চলে যান, আপনার সঙ্গে কোনো কথা বলব না।’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডা. মো. আরিফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল খায়ের মাহমুদ বলেন, ডা. আরিফুল ইসলাম দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা। ঘটনাটি মূলত ভুল-বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছে। তিনি বলেন, রোগীর স্বজন যোগাযোগের জন্য ব্যক্তিগত নম্বর চাওয়ার পরিবর্তে হাসপাতালের দাপ্তরিক নম্বর দেওয়া যেতে পারত।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার ঘোষণা দেয়নি।
প্রকাশক ও সম্পাদক: মিরাজ হোসেন সুজন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।