প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
বন্ধ করে দেওয়া ইটভাটা ফের চালুর চেষ্টা, ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পরিবেশ অধিদপ্তরের
নওগাঁ সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ ও সিলগালা করে দেওয়া একটি ইটভাটা ফের চালুর প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সেখানে ইট তৈরির চুলা সাজানোর কাজ চলছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মার্চে ওই ইটভাটার মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের চাপায় এক শিক্ষক নিহত হওয়ার পর এলাকাবাসীর বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও সড়ক অবরোধের ঘটনায় ইটভাটাটি বন্ধের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন।
সোমবার (২৭ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, নওগাঁ-বদলগাছী আঞ্চলিক মহাসড়কের শশীর মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘বিবিসি ব্রিকস’ নামের ইটভাটায় ইট তৈরির প্রস্তুতি চলছে। সেখানে চুলা সাজানোর কাজ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এর আগে গত ৩ মার্চ বেলা ১১টার দিকে কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের কাদিমপুর এলাকায় বিবিসি ইটভাটার মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টরের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী রিমন হোসেন (৩০) নিহত হন। তিনি কীর্ত্তিপুর গ্রামের শাহীন হোসেনের ছেলে এবং স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষক ছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রিমন হোসেন মোটরসাইকেলে করে প্রাইভেট পড়াতে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ইটভাটার মাটি বহনকারী ট্রাক্টরের চাপায় ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা শশীর মোড়ে অবস্থিত বিবিসি ইটভাটায় গিয়ে কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেন এবং ইটভাটা বন্ধের দাবিতে নওগাঁ-বদলগাছী আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন।
পরে সদর উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইটভাটাটি বন্ধের আশ্বাস দেওয়া হলে আন্দোলনকারীরা সড়ক থেকে সরে যান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরে প্রশাসনের উদ্যোগে ইটভাটার চুল্লি ভেঙে কার্যক্রম বন্ধ এবং ইটভাটাটি সিলগালা করা হয়।
এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জরিপে নওগাঁ জেলায় ১৫০টি সচল ইটভাটার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১২৫টি ইটভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই বলে জানা গেছে।
বিবিসি ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী শহীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরিবেশের ছাড়পত্র নেই বলে জানিয়ে ফোন কেটে দেন।
নওগাঁ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজমুল হোসাইন বলেন, ইটভাটাটি অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। এ কারণে এর চুল্লি ভেঙে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পুনরায় চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে এমন অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আবারও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, এর আগেও ওই ইটভাটার ট্রাক্টরের কারণে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা ইটভাটাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক: মিরাজ হোসেন সুজন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।