উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে কিংবা আইনি প্রক্রিয়া ধীরগতির হলে সমাজে ভুল বার্তা যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভুক্তভোগী পরিবার যেমন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়, তেমনি আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতিও মানুষের আস্থা কমে যায়।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রাজু আহমেদ হত্যার ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের দায় বা নির্দোষিতা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা আইন ও ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী। তবে কোনো ব্যক্তি আগে থেকেই গুরুতর অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত থাকলে এবং তার বিরুদ্ধে পুনরায় নতুন কোনো অভিযোগ ওঠে, তাহলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি রাখে।
মুন্সীগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু ইলিয়াস শান্ত সরকার হত্যা মামলাসহ আলোচিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার যদি দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন হয়, তাহলে সমাজে আইনের শাসনের প্রতি আস্থা বাড়বে। অনেকের মতে, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের মধ্যে আইনের প্রতি ভয় কমিয়ে দিতে পারে। তাই অপরাধের অভিযোগে জড়িতদের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি কোনো সভ্য সমাজের জন্য কাম্য নয়। একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার শুধু একটি পরিবারের ন্যায়বিচারের বিষয় নয়; এটি পুরো সমাজে নিরাপত্তা, আস্থা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পর্কিত।
তাই আলোচিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই একটি নিরাপদ ও আস্থাশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।