উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ফ্রান্সে বাংলাদেশি নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন আগের বছরের তুলনায় কমেছে। তবে ২০২৫ সালেও ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদনকারী দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ শীর্ষ ১০-এর মধ্যে রয়েছে।
ফ্রান্সের শরণার্থী ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের সুরক্ষাবিষয়ক দপ্তর (অফপ্রা) প্রকাশিত ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বছর দেশটিতে মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৭০টি আন্তর্জাতিক সুরক্ষা আবেদন জমা পড়ে। ২০২৪ সালের তুলনায় এ সংখ্যা ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো আশ্রয় আবেদন জমা পড়ে ১ লাখ ১১ হাজার ৩৪৩টি। একই সময়ে পুনর্বিবেচনার আবেদন ছিল ৩৩ হাজার ৭১৩টি।
অফপ্রার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রথমবারের আশ্রয় আবেদনকারীদের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ইউক্রেন। দেশটি থেকে ১১ হাজার ৯৮৯টি আবেদন জমা পড়ে।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো), তাদের আবেদন সংখ্যা ১১ হাজার ৩৩৮টি। আর দীর্ঘদিন শীর্ষে থাকা আফগানিস্তান নেমে এসেছে তৃতীয় স্থানে, দেশটির আবেদন সংখ্যা ১০ হাজার ৮২২টি।
তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নবম। ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো ৩ হাজার ৮১৬ জন বাংলাদেশি ফ্রান্সে আশ্রয়ের আবেদন করেন। যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ কম।
বাংলাদেশি আবেদনকারীদের মধ্যে নারীর হার ছিল ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীর হার ছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
অফপ্রার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ৪ হাজার ৫৩৪টি আবেদন (প্রথম আবেদন, পুনর্বিবেচনা ও পুনরায় খোলা আবেদনসহ) জমা পড়ে।
এর মধ্যে ৩৯৩ জন বাংলাদেশি শরণার্থী মর্যাদা বা সহায়ক সুরক্ষা পেয়েছেন। অন্যদিকে ৪ হাজার ৯০৭টি আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
অফপ্রা ও ফরাসি জাতীয় আশ্রয় আদালত (সিএনডিএ)-এর সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে মোট সুরক্ষা স্বীকৃতির হার ছিল মাত্র ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
অফপ্রা জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তারা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০টির বেশি সিদ্ধান্ত দিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
এ সময়ে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৭৮৩ জন। ফলে সামগ্রিক সুরক্ষা স্বীকৃতির হার দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ২ শতাংশে।
অফপ্রার দাবি, আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়ানোর ফলে অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যা প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে শরণার্থী ও সুরক্ষা পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য ৭৯ হাজারের বেশি জন্মসনদ, বিবাহসনদসহ বিভিন্ন নাগরিক নথি ইস্যু করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে আশ্রয় পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত ঝুঁকি, মানবাধিকার পরিস্থিতি, নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে শুধু অর্থনৈতিক কারণ দেখিয়ে করা আবেদন সাধারণত সুরক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ে।