উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নতুন করে অবরোধ ও হামলার ঘটনায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ছয় মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বড় জ্বালানি সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডের মতো বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ফলে ওই অঞ্চলের সমুদ্রপথে অস্থিরতা তৈরি হলে সরাসরি প্রভাব পড়ে এশিয়ার জ্বালানি বাজারে।
সম্প্রতি লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বার বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে হামলার ঘটনা ঘটে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর ওই রুটে জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়ে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে এর আগে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গেলে এশিয়ার বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সৌদি আরব পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পশ্চিম উপকূলের ইয়ানবু বন্দরে তেল স্থানান্তর শুরু করে।
জাপান, চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বড় ক্রেতাদের জন্য লোহিত সাগরের রুট তখন গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে ওঠে। কিন্তু বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে হামলার পর সেই পথও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, অনেক এশীয় দেশ এখন তাদের কৌশলগত তেলের মজুদের সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। দীর্ঘস্থায়ী সংকট তৈরি হলে স্থানীয় বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দিচ্ছে। তবে এতে সরকারের বাজেটের ওপর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়াসহ কয়েকটি দেশে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ছে।
হুথি হামলা এড়িয়ে জাহাজগুলোকে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। সুয়েজ খাল হয়ে ভূমধ্যসাগর ও আফ্রিকার পথ ব্যবহার করলে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে যাচ্ছে।
আবার আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে গেলে জাহাজের যাত্রা সময় দ্বিগুণের বেশি হয়ে যায়। এতে জাহাজ ভাড়া, জ্বালানি খরচ ও বীমা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সংকট মোকাবিলায় এশিয়ার অনেক শোধনাগার রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও ফিলিপাইনসহ কয়েকটি দেশ নিজেদের কৌশলগত তেলের মজুদ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তার বড় দুর্বলতা। দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বিকল্প উৎসে বিনিয়োগ না বাড়ালে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট আরও বড় আকার নিতে পারে।