উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
পটুয়াখালীর সদর উপজেলায় এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সদর থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরিন নিলা মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি এবং একটি সামাজিক সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।
মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী নারী উল্লেখ করেন, প্রায় সাত বছর আগে তার স্বামী মারা যান। এরপর তিনি একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। সেই সময় থেকেই অভিযুক্ত তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শহরে নিয়ে গিয়ে একটি বাসায় জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসার কথা বলে একটি ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে তার অমতে ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত ঘটানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে শহরে এনে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে আমলে নিয়েছেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আদালতের সিদ্ধান্তের আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতের আদেশের কপি এখনও থানায় পৌঁছায়নি। কপি হাতে পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দ্রষ্টব্য: এ মামলার অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন। এখন পর্যন্ত আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।