উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বর্ষার জলরাশিতে মুখর চলনবিল; পর্যটকদের ভিড়ে ব্যস্ত নৌকার মাঝি ও ঘাটসংলগ্ন ব্যবসায়ীরা
বর্ষার পানিতে থৈথৈ করছে দেশের বৃহত্তম বিল চলনবিল। দিগন্তজোড়া জলরাশি, মৃদু বাতাসে ছোট ছোট ঢেউ আর সবুজ-নীল প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যে নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল। আর এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সিংড়া পেট্রোবাংলা পয়েন্ট নৌকা ঘাট এখন পরিণত হয়েছে ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই জমজমাট হয়ে ওঠে নৌকা ঘাট। রাজশাহী, বগুড়া, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পরিবার, বন্ধুদের দল, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা এখানে এসে নৌকা ভাড়া করে চলনবিলের বিস্তীর্ণ জলরাশিতে ভ্রমণে বের হন। তারা বিলসা, কুন্দইল ব্রিজ, বিশ্বরোডের ৯ নম্বর ব্রিজ এবং ঐতিহাসিক তিশিখালী মাজারসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন।
বর্তমানে ঘাটে শতাধিক ইঞ্জিনচালিত শ্যালো নৌকা, ছোট ডিঙি নৌকা এবং পিকনিকের জন্য বিশেষভাবে সাজানো বড় নৌকা প্রস্তুত রয়েছে। সাধারণ যাত্রীদের জন্য তিশিখালী মাজার পর্যন্ত জনপ্রতি ভাড়া ৩০ টাকা। পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে রিজার্ভ নৌকার ভাড়া ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা। এছাড়া দিনব্যাপী ভ্রমণ বা পিকনিকের জন্য বড় নৌকা ৫,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকা এবং মাঝারি নৌকা ৪,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকায় ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার পর্যটকদের উপস্থিতি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ সময় নৌকার ভাড়াও কিছুটা বাড়লেও দর্শনার্থীদের আগ্রহে কোনো কমতি নেই।
রাজশাহী থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা আনিসুর রহমান বলেন, “শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে চলনবিলে এসেছি। বর্ষার এই সৌন্দর্য সত্যিই মনকে প্রশান্ত করে।”
পর্যটকদের ভিড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় মাঝিরাও। তাদের মতে, বর্ষা মৌসুমই বছরের সবচেয়ে ভালো আয়-রোজগারের সময়।
স্থানীয় মাঝি সুজন আলী বলেন, “বর্ষা এলেই আমাদের কাজ বেড়ে যায়। প্রতিদিন শত শত মানুষ ঘুরতে আসে। আমরা চেষ্টা করি সবাইকে নিরাপদে সুন্দরভাবে ঘুরিয়ে দেখাতে।”
পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে ঘাটসংলগ্ন দোকানপাটেও জমে উঠেছে বেচাকেনা। ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ি, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পোশাক, গামছা ও স্যান্ডেলের দোকানগুলোতেও বেড়েছে ক্রেতাদের আনাগোনা।
কফিহাউসের স্বত্বাধিকারী আব্দুল আল মামুন বলেন, “পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বিক্রিও অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে বিকেলের দিকে দোকানে বসার জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের জানান, গামছা, হাফ প্যান্ট ও স্যান্ডেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তার ভাষায়, “ধীরে ধীরে সিংড়া নৌকা ঘাট উত্তরাঞ্চলের একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।”
বর্ষার মনোমুগ্ধকর প্রকৃতি, বিস্তীর্ণ জলরাশি এবং প্রাণবন্ত পরিবেশের কারণে চলনবিলের সিংড়া পেট্রোবাংলা পয়েন্ট নৌকা ঘাট এখন উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।