উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
কুষ্টিয়ার মিরপুরে নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরুকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করেছেন কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আবদুল গফুর। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশাসনিক প্রটোকল ও সরকারি কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকালে ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে নবনিযুক্ত কর্মকর্তাকে শুভেচ্ছা জানান সংসদ সদস্য। পরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছবি ও বক্তব্য প্রকাশ করলে বিষয়টি আলোচনায় আসে।
ফেসবুক পোস্টে আবদুল গফুর লেখেন, মিরপুর উপজেলাবাসীর পক্ষ থেকে নবনিযুক্ত ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। সাক্ষাতে উপজেলার উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংসদ সদস্যের দেওয়া ফুলের তোড়ায় লেখা ছিল— ‘মিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব আফরোজ শাহীন খসরু মহোদয়কে শুভেচ্ছা ও স্বাগতম’।
এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যাপক জোমারত আলী, উপজেলা জামায়াতের আমির রেজাউল করিম, পৌর মেয়র পদপ্রার্থী ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা ওমর ফারুকসহ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য আবদুল গফুরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স) এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। অনেকে মন্তব্য করেন, একজন সংসদ সদস্যের ইউএনওকে এভাবে বরণ করা প্রটোকলসম্মত কি না, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, একজন সংসদ সদস্য দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে ফুল দেওয়ার ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তার ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বা অপ্রকাশিত চাপের বার্তা যেতে পারে। এতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।