উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশিদের সাইবার স্ক্যাম বা ‘সাইবার দাসত্বে’ বাধ্য করার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, চাকরির আশ্বাসে বিদেশে নেওয়া ব্যক্তিদের ৯৮ শতাংশই প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি। বরং ৯০ শতাংশকে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবপাচারের এই নতুন রূপ ঠেকাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর নজরদারি এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
কম্বোডিয়ায় পাচারের শিকার মো. সফিকুল ইসলাম হৃদয় জানান, প্রায় ৮ লাখ টাকা হারিয়েও জীবিত দেশে ফিরতে পেরেছেন তিনি। তবে এখনো সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।
তিনি বলেন, “১৭টি দিন আমার কাছে ১৭ বছরের মতো মনে হয়েছে। তিনবার আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলাম। এক কাপড়েই সেখানে ছিলাম, এক কাপড়েই দেশে ফিরেছি। নির্যাতনের কারণে রাতে ঘুমাতে পারতাম না।”
বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি কম্বোডিয়ায় গেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের অনেককে প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে আটকে রেখে প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করা হয়েছে। শুধু জুন মাসেই কম্বোডিয়া থেকে ৫৮৩ জন দেশে ফিরেছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদেশে যাওয়ার আগে তারা দালালদের কয়েক লাখ টাকা দিয়েছেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জব্দ করে জোরপূর্বক বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, অনেকেই বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়েই কম্বোডিয়ায় গেছেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে চাকরি না পেয়ে মানবপাচারের শিকার হয়েছেন। বিষয়টি রোধে বিদেশে চাকরির অনুমোদনের আগে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই প্রয়োজন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, কম্বোডিয়ায় প্রকৃত শ্রমবাজার রয়েছে কি না, তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিএমইটি ও সংশ্লিষ্ট বিদেশি কার্যালয়গুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে মানবপাচারের কৌশলও পরিবর্তিত হয়েছে। তাই আন্তঃদেশীয় এই অপরাধ দমনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিএমইটি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত পদক্ষেপ অপরিহার্য।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মানবপাচার-সংক্রান্ত ৫ হাজার ২৮৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১৭টি মামলা। অধিকাংশ মামলাতেই আসামিরা খালাস পেয়েছেন।