উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও আশপাশের কয়েকটি উপজেলায় পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর অনুসারীদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ বলছে, চাঁদাবাজি, সশস্ত্র হামলা ও হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন অপরাধে এই চক্রের সদস্যদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দেশের বাইরে অবস্থান করেও বড় সাজ্জাদ তার সহযোগীদের মাধ্যমে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার অন্যতম সহযোগী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ‘ডেভিড ইমন’কে সম্প্রতি যশোর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীর মাধ্যমে ৫০ জনের বেশি সদস্যের একটি সক্রিয় অপরাধী চক্র পরিচালনা করেন। বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকায় বালু ব্যবসা, ঝুট ব্যবসা, পরিবহন, আইএসপি ব্যবসা ও নির্মাণ প্রকল্প থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রথমে ফোনে চাঁদা দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না করলে বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। অনেক ভুক্তভোগী নিরাপত্তার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে অভিযোগ করতেও ভয় পাচ্ছেন।
সম্প্রতি হাটহাজারীর দক্ষিণ পাহাড়তলীতে ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ ওঠে। এর আগে চকবাজার-বাকলিয়া এলাকায় একটি ইন্টারনেট সেবা প্রতিষ্ঠানে ২ কোটি টাকা এককালীন এবং মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়।
পুলিশের ভাষ্য, এসব ঘটনার সঙ্গে ডেভিড ইমনসহ বড় সাজ্জাদের অনুসারীদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অপরাধী চক্রটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ, ভার্চুয়াল নম্বর ও বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে। অনেক সময় হামলার পর সদস্যরা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপনে চলে যায়।
পুলিশের ধারণা, চক্রটি নতুন সদস্য হিসেবে কিশোর গ্যাংয়ের তরুণদেরও ব্যবহার করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বড় সাজ্জাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২০০০ সালের চট্টগ্রামের আলোচিত ৮ খুন মামলাতেও অভিযোগ ছিল। এছাড়া তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও হত্যা ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর চক্রটি আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। ছোট সাজ্জাদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর ডেভিড ইমন, মোহাম্মদ রায়হান আলমসহ কয়েকজন এই নেটওয়ার্ক পরিচালনায় যুক্ত হন বলে পুলিশের দাবি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) জানিয়েছে, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে অভিযান চলছে।
সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, “আমাদের কিছুটা সময় দিন। আমরা অবশ্যই সবাইকে গ্রেপ্তার করব।”