উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বাংলাদেশের ২৪তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। অতীত অভিজ্ঞতা, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকার ও দলের সাংগঠনিক ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে এবার কোনো ধরনের ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ করতে চায় না দলটি।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদকে শুধু সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখছে না দলটি। বরং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা এবং সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দলের এক স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। তাই এবার এমন কাউকে বেছে নিতে চায় বিএনপি, যিনি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সক্ষম এবং ভবিষ্যতে কোনো সংকটের কারণ হবেন না।
দলীয় সূত্র বলছে, সম্ভাব্য কয়েকজনের নাম নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ নীতিনির্ধারকরা বিভিন্ন পর্যায়ে মতামত নিচ্ছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আব্দুল মঈন খানের নামও আলোচনায় রয়েছে।
তবে দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এখনো কোনো নাম চূড়ান্ত নয়। আগামী শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, রাষ্ট্রপতি পদে কাউকে মনোনয়ন দিলে দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতেও পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।
যদি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হন, তাহলে দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে হবে। আবার বর্তমান স্পিকারকে স্থায়ী রাষ্ট্রপতি করা হলে সংসদের স্পিকার পদেও পরিবর্তন প্রয়োজন হবে।
এ কারণে দল ও সরকারের সাংগঠনিক ভারসাম্য বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দলীয় সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নির্বাচনে কয়েকটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—
বিএনপির এক নেতা বলেন, রাষ্ট্রপতি এমন একজন হওয়া প্রয়োজন, যিনি দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে পারবেন।
সম্প্রতি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই নেওয়া হবে।
দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর বিষয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নির্বাচন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।