উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
দ্রুত লাভের আশায় ব্যবহার হচ্ছে ক্ষতিকর রাসায়নিক; বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা—ভেজাল খাবার নীরব ঘাতক
রাজধানীর বাজারগুলো এখন নানা মৌসুমি ফলে ভরপুর। রঙিন ও আকর্ষণীয় এসব ফল স্বাদ ও পুষ্টির জন্য মানুষের পছন্দের হলেও বাজারে ভেজাল ও রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগে বাড়ছে উদ্বেগ। মৌসুম শুরুর আগেই অতিরিক্ত চকচকে হলুদ আম, টকটকে লাল লিচু কিংবা অস্বাভাবিক রঙের ফল বাজারে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত মুনাফার আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও চাষি অপরিপক্ব ফল পাকাতে ইথোফন, ক্যালসিয়াম কার্বাইডসহ বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে আনারসের ক্ষেত্রে গাছে থাকা অবস্থায় বা সংগ্রহের পর রাসায়নিক প্রয়োগ করে কৃত্রিমভাবে রং ও আকর্ষণ বাড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।
রাঙামাটির আনারসচাষি সায়মং বলেন, প্রাকৃতিকভাবে পাকা আনারস সাধারণত পুরোপুরি টসটসে হলুদ হয় না। গায়ে সামান্য হলুদ ভাব আসে। কিন্তু ক্রেতারা বেশি হলুদ ও আকর্ষণীয় আনারস পছন্দ করায় অনেকেই রাসায়নিক ব্যবহার করছেন।
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে রাসায়নিক প্রয়োগের পরপরই আনারস সংগ্রহ করে বাজারে পাঠানো হয়। পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে এসব ফল পৌঁছে যাচ্ছে ভোক্তার হাতে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘদিন রাসায়নিকযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে কিডনি, লিভার, হরমোন ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. শামীম আহমেদ বলেন, ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বর্তমানে নীরব ঘাতকে পরিণত হয়েছে। এসব খাবার শিশুদের শারীরিক বিকাশ ব্যাহত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে ফলের বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে অনেক সময় আসল-নকল বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। নয়াবাজারের ক্রেতা মো. শাহ আলম বলেন, শিশুর জন্য আনারস কিনতে এসে দেখেছেন সব ফলই অস্বাভাবিক হলুদ। কিন্তু এগুলো গাছপাকা কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ), বিএসটিআই ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান ও নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেজাল রোধে শুধু অভিযান নয়, উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।