উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
উন্নত জীবনযাত্রা, নিরাপদ পরিবেশ, মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগ থাকায় ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তুলনামূলক কম খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা দেশটিকে বেছে নিচ্ছেন।
শেনজেনভুক্ত দেশ হওয়ায় অস্ট্রিয়ায় পড়াশোনার পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে পড়াশোনা শেষে চাকরি বা ব্যবসার ক্ষেত্রেও দেশটি তৈরি করছে সম্ভাবনার নতুন দ্বার।
অস্ট্রিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। উন্নত শিক্ষা কাঠামো, গবেষণার সুযোগ, নিরাপদ পরিবেশ এবং বিভিন্ন বিষয়ে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ার সুবিধা থাকায় দেশটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
অস্ট্রিয়ার উল্লেখযোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে— ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়, ভিয়েনা কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়, ইনসব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রাজ কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়, ক্লাগেনফুর্ট বিশ্ববিদ্যালয়, সালজবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়, জোহানেস কেপলার বিশ্ববিদ্যালয়, ভিয়েনা প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীবনবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভিয়েনা অর্থনীতি ও ব্যবসা বিশ্ববিদ্যালয়।
অস্ট্রিয়ায় মানবিক, ব্যবসা ও অর্থনীতি, আইন, সমাজবিজ্ঞান, ভাষা, মনোবিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, পরিবেশ ও জীবনবিজ্ঞানসহ নানা বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যবহারিক ও পেশাভিত্তিক কোর্সেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারেন।
স্নাতক পর্যায়ে আবেদন করতে হলে উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে জার্মান ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে।
স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ভর্তির জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সাধারণত ছয় সেমিস্টারের স্নাতক ডিগ্রি বা ১৮০ ইউরোপীয় ক্রেডিট সম্পন্ন থাকতে হয়। গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামের জন্য স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ও গবেষণা প্রস্তাব জমা দিতে হতে পারে।
অস্ট্রিয়ার বেশিরভাগ কোর্স জার্মান ভাষায় পরিচালিত হলেও বর্তমানে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি মাধ্যমের কোর্স চালু রয়েছে। এসব কোর্সে আবেদনের জন্য ইংরেজি ভাষার দক্ষতার সনদ প্রয়োজন হতে পারে।
অস্ট্রিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাধারণত বছরে দুটি ভর্তি মৌসুম থাকে। একটি সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া শীতকালীন সেশন এবং অন্যটি ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া গ্রীষ্মকালীন সেশন।
আবেদনের আগে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় নির্বাচন, ভর্তি যোগ্যতা যাচাই, অনলাইনে আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা, ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হয়।
অস্ট্রিয়ার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইউরোপের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি সেমিস্টারে সাধারণত প্রায় ৭৫১ দশমিক ৯২ ইউরো টিউশন ফি নির্ধারিত থাকে। বছরে এই খরচ প্রায় ১ হাজার ৫০৩ দশমিক ৮৪ ইউরো।
একজন শিক্ষার্থীর মাসিক জীবনযাত্রার খরচ গড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ইউরো হতে পারে। এর মধ্যে বাসাভাড়া, খাবার, যাতায়াত, পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত খরচ অন্তর্ভুক্ত।
অস্ট্রিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজ করার সুযোগ পান। তবে এজন্য প্রয়োজনীয় কাজের অনুমতিপত্র নিতে হয়।
অনুমতি পাওয়া গেলে একজন শিক্ষার্থী সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে পারেন। সাধারণত এই অনুমতির মেয়াদ এক বছর থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা নবায়ন করা যায়।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি বা স্কলারশিপের ব্যবস্থা রয়েছে। এসব বৃত্তির আওতায় টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
এ ছাড়া অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নেও বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে।
অস্ট্রিয়ায় ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীরা চাকরি খোঁজার জন্য বিশেষ ধরনের আবাসনের অনুমতি পেতে পারেন। চাকরির প্রস্তাব পেলে পূর্ণকালীন কাজের সুযোগও তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা, ভাষাগত দক্ষতা এবং সময়মতো আবেদন করতে পারলে অস্ট্রিয়ায় উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়ার ভালো সুযোগ রয়েছে।