উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতাতে সাম্প্রতিক অভিবাসন সংকটের মধ্যে স্পেন সরকার জানিয়েছে, সীমান্ত অতিক্রম করে প্রবেশ করা অধিকাংশ অভিবাসী ইতোমধ্যে মরক্কোতে ফিরে গেছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতির জেরে ইতালি সাময়িকভাবে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তির কিছু বিধান স্থগিত করেছে।
স্পেন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় ৪৮ হাজার ৩০০ জন অভিবাসী মরক্কোতে ফিরে গেছেন। এর আগে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, সীমান্ত অতিক্রমকারীদের বেশিরভাগই ইতোমধ্যে ফিরে গেছেন।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শত শত অভিবাসী সীমান্ত ফটক ও বেড়ার ফাঁক দিয়ে স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে যাচ্ছেন। তাদের অনেকেই সেউতায় পর্যাপ্ত খাবার, আশ্রয় কিংবা প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অন্যদিকে সীমান্তের মরক্কো অংশে এখনও জড়ো হওয়া লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করতে দাঙ্গা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করছে।
ইতালি স্পেনের সঙ্গে এক মাসের জন্য শেনজেন ব্যবস্থার কিছু অংশ সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়ার পর স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস বলেন, শেনজেন অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা পুরোপুরি নিশ্চিত রয়েছে।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (X)-এ দেওয়া এক বার্তায় বলেন, সেউতা ও মেলিয়া থেকে স্পেনের মূল ভূখণ্ডে যেতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে পুলিশি পরিচয় যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তাই সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি জানিয়েছেন, সেউতায় অভিবাসীদের ব্যাপক ঢলের কারণে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন ব্যবস্থার কিছু বিধান এক মাসের জন্য সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
তবে ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে স্পেন বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের স্বাভাবিক ভ্রমণে কোনো প্রভাব পড়বে না। মূলত স্পেন থেকে আগত অ-ইইউ নাগরিকদের ক্ষেত্রে বিমান ও সমুদ্রবন্দরে লক্ষ্যভিত্তিক অতিরিক্ত তল্লাশি চালানো হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে সেউতা সীমান্তে অভিবাসীদের নজিরবিহীন ঢল নামে। উন্নত জীবনের আশায় এবং সীমান্ত খোলা রয়েছে—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর হাজারো মানুষ মরক্কো থেকে স্থল ও সমুদ্রপথে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেন।
স্পেন ও মরক্কো উভয় দেশই সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সেনা ও সীমান্তরক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টাকালে পদদলিত হওয়া ও সমুদ্রে ডুবে যাওয়াসহ বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।