উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
স্পেসএক্সের একটি পরিত্যক্ত রকেটের উপরের ধাপ (আপার স্টেজ) অনিচ্ছাকৃতভাবে চাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষের পথে রয়েছে। বুধবার এটি চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়বে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। সংঘর্ষের ফলে চাঁদের মাটিতে একটি নতুন গর্ত (ক্রেটার) তৈরি হবে এবং বিপুল পরিমাণ ধুলাবালি ও পাথরের টুকরা মহাকাশে ছিটকে যাবে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এক বছরেরও বেশি আগে দুটি চন্দ্রযান বহন করে উৎক্ষেপণ করা এই রকেটের আপার স্টেজ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে মহাকাশে ভেসে বেড়াচ্ছিল। নির্ধারিত কক্ষপথ পরিবর্তন না করায় সেটি এখন চাঁদের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
মহাকাশ পর্যবেক্ষক বিল গ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রকেটটি ঘণ্টায় প্রায় ৮ হাজার ৭০০ কিলোমিটার (প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল) বেগে চাঁদের আইনস্টাইন ক্রেটার–এর কাছাকাছি আঘাত হানতে পারে। এই গতি শব্দের গতির প্রায় সাত গুণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘর্ষের শক্তি প্রায় তিন টন টিএনটি বিস্ফোরকের সমান হবে। তবে এতে চাঁদের কোনো বড় ধরনের ক্ষতি হবে না। সম্ভাব্য গর্তটির ব্যাস হতে পারে প্রায় ২৭ মিটার এবং গভীরতা প্রায় ৫ মিটার।
সংঘর্ষের সময় যে আলোর ঝলক সৃষ্টি হবে, তা পৃথিবী থেকে খালি চোখে দেখা কঠিন হতে পারে। তবে সংঘর্ষের ফলে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়া ধুলাবালির মেঘ কয়েক মিনিট থেকে কয়েক দশ মিনিট পর্যন্ত টেলিস্কোপে দৃশ্যমান থাকতে পারে।
লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ফার্নান্দো বলেন, চাঁদে বাতাস না থাকায় ধুলাবালি দ্রুত ছড়িয়ে যায় না। তাই এই ঘটনাটি ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের অভিযান ও মহাকাশযানের জন্য ধ্বংসাবশেষ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তা বোঝার সুযোগ করে দেবে।
ঘটনার আগে ও পরে চাঁদের ওই অঞ্চলের ছবি সংগ্রহ করবে নাসার লুনার রিকনাইস্যান্স অরবিটার (LRO) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার দানুরি (Danuri) লুনার অরবিটার। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা সংঘর্ষের প্রভাব মূল্যায়ন করবেন।
এটি হবে চাঁদে কোনো পরিত্যক্ত রকেটের দ্বিতীয় অনিচ্ছাকৃত সংঘর্ষ। এর আগে ২০২২ সালে একটি চীনা রকেটের অংশ চাঁদের দূরবর্তী অংশে আঘাত হেনে দুটি গর্ত তৈরি করেছিল।
মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর কক্ষপথে ক্রমবর্ধমান পরিত্যক্ত রকেট ও মহাকাশ আবর্জনা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ঘটনা সেই সমস্যার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তুলছে।