উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ভেনেজুয়েলা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা মরিসিও ক্লেভার-কারোনে তাঁর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি নিজেই রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এখন আর ভেনেজুয়েলা বিষয়ক দায়িত্ব তদারক করছেন না।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ামিভিত্তিক ব্যবসায়ী ক্লেভার-কারোনে কোনো সরকারি পদে না থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসনের ভেনেজুয়েলা নীতি নির্ধারণে ব্যাপক প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় ক্লেভার-কারোনের ভূমিকা আরও বেড়ে যায়। ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ ব্যবহার, ঋণ পুনর্গঠন এবং মার্কিন কোম্পানির ব্যবসায়িক চুক্তির ক্ষেত্রেও তিনি প্রভাব রেখেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ক্লেভার-কারোনে দাবি করেছেন, তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন। তবে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পুনর্গঠনের জন্য সেন্টারভিউ পার্টনার্স নামের একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে ক্লেভার-কারোনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই হওয়া এ চুক্তির মূল্য ১৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ভেনেজুয়েলা সরকার ও বিরোধী নেতাদের মধ্যে আলোচনার আয়োজন এবং দেশটির তেল খাতে বিভিন্ন ব্যবসায়িক চুক্তির বিষয়েও তিনি প্রভাব রেখেছেন বলে আটটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।
তবে ক্লেভার-কারোনের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও প্রশ্ন উঠেছিল। সমালোচকদের অভিযোগ ছিল, তিনি সরকারি কর্মকর্তা না হয়েও ভেনেজুয়েলার সম্পদ নিয়ে মার্কিন ব্যবসায়িক স্বার্থে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করছিলেন।
ক্লেভার-কারোনে অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় তাঁর বা তাঁর প্রতিষ্ঠানের কোনো আর্থিক স্বার্থ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ক্লেভার-কারোনে বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্বে ছিলেন না। দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, তিনি একজন বেসরকারি নাগরিক হিসেবে ভেনেজুয়েলা বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগ ব্যবহার করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্লেভার-কারোনের প্রস্থান ভেনেজুয়েলা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ক্লেভার-কারোনে এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ইন্টার-আমেরিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) প্রেসিডেন্ট ছিলেন। পরে আচরণগত অভিযোগে তিনি ওই পদ হারান। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনে তিনি লাতিন আমেরিকা বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবেও অল্প সময় দায়িত্ব পালন করেন।