উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ঢাকা: রঙিন মোড়ক, কার্টুন চরিত্র ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের প্রভাবে প্রতিদিন লাখো শিশু চিপস, চকোলেট, বিস্কুট, কোমল পানীয়, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, কেক, কুকিজসহ বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবার খাচ্ছে। তবে এসব খাবারের অনেকগুলোতেই অতিরিক্ত চিনি, সোডিয়াম (লবণ) ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুকালে নিয়মিত অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস ভবিষ্যতে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
জনস্বাস্থ্য গবেষণা ও বিভিন্ন ল্যাব পরীক্ষায় দেখা গেছে, বাজারে প্রচলিত অনেক প্যাকেটজাত খাবারে ঘোষিত পুষ্টিমান ও প্রকৃত উপাদানের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। অনেক ভোক্তাই প্যাকেটের পেছনে থাকা পুষ্টি তথ্য বুঝতে না পারায় না জেনেই অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ফ্যাটযুক্ত খাবার কিনছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু খাদ্য নিরাপদ হলেই হবে না, খাদ্যের পুষ্টিগত ঝুঁকি সম্পর্কেও ভোক্তাকে পরিষ্কার তথ্য দিতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অনিরাপদ ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যের কারণে বিশ্বে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ অসুস্থ হন। এর মধ্যে শিশুদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশেও অসংক্রামক রোগ বর্তমানে বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে মোট মৃত্যুর বড় একটি অংশ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যানসার ও কিডনি রোগের মতো অসংক্রামক রোগের কারণে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে প্যাকেটের সামনের অংশে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা প্রদর্শন বা ‘ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং’ (এফওপিএল) চালুর উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্বের ৪৪টি দেশে ইতোমধ্যে এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্যাকেটের সামনে সহজে বোঝার মতো সতর্কবার্তা থাকলে ভোক্তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে উৎসাহিত হন।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) খসড়া ‘সেইফ ফুড (প্যাকেজড ফুড লেবেলিং) রেগুলেশন্স, ২০২৬’-এ অতিরিক্ত চিনি, সোডিয়াম ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবারের মোড়কে কালো রঙের অষ্টভুজ আকৃতির সতর্কবার্তা প্রদর্শনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এফওপিএল কোনো খাবার নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নয়; বরং এটি ভোক্তার জানার অধিকার নিশ্চিত করার একটি কার্যকর পদ্ধতি।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বলেন, খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও চর্বির উপস্থিতি মানুষকে ধীরে ধীরে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শিশু ও তরুণদের সুরক্ষায় এফওপিএল নীতিমালা বাস্তবায়ন জরুরি।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. মাহফুজুর রহমান মিলন বলেন, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নির্বাচন করতে সঠিক তথ্য পাওয়া ভোক্তার অধিকার। কার্যকর ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং এই অধিকার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী বিজ্ঞানী ড. আহমাদ খায়রুল আবরার বলেন, আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের লেবেলিং ভোক্তাদের স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে সহায়তা করে এবং উৎপাদকদেরও পণ্যের মান উন্নয়নে উৎসাহিত করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের আজকের খাদ্যাভ্যাসই আগামী দিনের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে। তাই খাবার নির্বাচন এখন শুধু স্বাদের বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতার বিষয়।