উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি এবং সদস্য (মেম্বার) পদে এসএসসি সনদের মূল কপি জমা না দিলে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে—এমন একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবের বরাত দিয়ে প্রচারিত এ দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি এবং সদস্য পদে এসএসসি পাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এমনকি একটি জাতীয় দৈনিকের পেপার কাটিংও শেয়ার করা হচ্ছে, যা দেখে অনেকেই বিষয়টিকে সত্য বলে মনে করছেন।
তবে যাচাই করে দেখা গেছে, মূলধারার কোনো গণমাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের এমন কোনো সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশিত হয়নি। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে প্রার্থিতার জন্য নতুন কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বা নির্দেশনা নেই।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ পর্যালোচনায় দেখা যায়, আইনের ২৬ ধারায় ইউপি চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করা হয়নি।
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা (অন্তত স্নাতক) নির্ধারণের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না—এ মর্মে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছেন। দুই আইনজীবীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত স্থানীয় সরকার সচিব, আইন সচিব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেন।
রিটকারীদের বক্তব্য, ইউপি চেয়ারম্যানরা গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। তাই এ পদে প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা উচিত। তবে আদালতের রুল জারি মানেই আইন পরিবর্তন বা নতুন বিধান কার্যকর হওয়া নয়।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, ইউপি চেয়ারম্যান পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি নির্বাচন কমিশন। হাইকোর্টের রুল, বিদ্যমান আইন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর আইন এবং আদালতের আগের নির্দেশনা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অতএব, বর্তমানে কার্যকর আইনে ইউপি চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি বা স্নাতক পাস বাধ্যতামূলক নয়। একইভাবে সদস্য (মেম্বার) পদে এসএসসি সনদের মূল কপি জমা না দিলে মনোনয়নপত্র বাতিল হবে—এমন কোনো বিধানও নেই। ফলে নির্বাচন কমিশনের সচিবের বরাতে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত দাবিটি ভুয়া।