উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার পর দেশের কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার খাতে ব্যয় বেড়েছে। বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণের সুদ ও পরিচালন খরচ বাড়ায় সংকটে পড়েছেন হিমাগার মালিকরা। অন্যদিকে সংরক্ষণ খরচ বাড়ার প্রভাব শেষ পর্যন্ত আলুচাষীদের ওপর পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হিমাগার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএসএ) জানিয়েছে, নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার পর হিমাগারের বিদ্যুৎ ব্যয় গড়ে প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, আগে অফ-পিক সময়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ছিল ১৩ টাকা ৬২ পয়সা। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১৬ টাকা ৬ পয়সা। একইভাবে পিক আওয়ারে প্রতি ইউনিটের দাম ৯ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৫৬ পয়সায়।
রংপুরের ফয়জুন নাহার হিমাগার লিমিটেডের উদাহরণ দিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মে মাসের বিদ্যুৎ বিল ছিল ১০ লাখ ৪৬ হাজার ১৪২ টাকা। জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৫ হাজার ৫৫১ টাকায়।
হিমাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই সময়ে আবহাওয়া তুলনামূলক ঠান্ডা থাকায় বিদ্যুতের ব্যবহার কিছুটা কম ছিল। গরমের সময়ে ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
দেশের আলুচাষীরা দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দাম পাওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। এর মধ্যে হিমাগার খরচ বাড়লে কৃষকের লোকসান আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হিমাগার মালিকরা বলছেন, বিদ্যুৎ, শ্রমিক, যন্ত্রপাতি ও ব্যাংক ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাদের পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়েছে। তবে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ইচ্ছা থাকলেও ভাড়া বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, ১০ হাজার টন ধারণক্ষমতার একটি হিমাগারে ব্যাংক ঋণের সুদ ও বিদ্যুৎ খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর পেছনে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৭ টাকা ১১ পয়সা। অন্যান্য খরচ যোগ করলে এই ব্যয় আরও বেড়ে যায়।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে দেশে প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ ৮৫ হাজার টন আলু উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি হিমাগার এবং অ-হিমায়িত মডেল ঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে প্রায় ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টন আলু।
দেশে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৪০২টি হিমাগার রয়েছে।
হিমাগার মালিকরা খাতটিকে টিকিয়ে রাখতে বিদ্যুতে বিশেষ ছাড় বা রিবেট দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বিদ্যুতের বাড়তি ব্যয় কমানো না গেলে ভবিষ্যতে হিমাগার পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কৃষকের ওপর।
কৃষি অর্থনীতিবিদরাও মনে করছেন, আলুচাষীদের রক্ষায় সরকারকে হিমাগার ভাড়া সহায়তা, বিদ্যুতে ভর্তুকি এবং আলুর বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন থেকে বাজারজাত পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থায় সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে আলু খাতে কৃষকের লোকসান আরও বাড়তে পারে।