উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
রাজধানীর যানজট কমানো এবং উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে নির্মাণাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শুরুতে প্রতি কিলোমিটারে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭০৪ কোটি টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২৭ কোটি টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় বেড়েছে ৪২৩ কোটি টাকা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কাজের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পটির দৃশ্যমান পরিবর্তনও এসেছে। আগামী আগস্ট মাসেই ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার অংশের দুটি সার্ভিস লেন সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত সার্বিক অগ্রগতি ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৬৫ শতাংশ। তবে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। পরে প্রথম সংশোধনীতে তা বেড়ে হয় ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা।
সম্প্রতি প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগের তুলনায় প্রায় ৯ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা বা ৫৪ শতাংশের বেশি ব্যয় বেড়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, ভ্যাট-ট্যাক্স পরিবর্তন, নতুন কিছু অঙ্গ সংযোজন এবং ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরের কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে।
প্রকল্প এলাকায় দেখা গেছে, ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত সার্ভিস লেনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। ইতোমধ্যে সড়কে কার্পেটিং সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে চলছে রোড মার্কিংসহ শেষ মুহূর্তের কাজ।
প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দুটি সার্ভিস লেন সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, সার্ভিস লেন চালুর পর নিচের বিদ্যমান সড়ক বন্ধ করে মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাঠামো নির্মাণ শুরু হবে। এ সময় পুরোনো সেতুগুলো অপসারণ করা হবে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, একই ঠিকাদারের মাধ্যমে নকশা ও নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ায় টার্নকি পদ্ধতির সুবিধা রয়েছে। তবে শুরুতেই জমি অধিগ্রহণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল।
তিনি বলেন, প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বেড়ে যাওয়ায় এর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল দৈর্ঘ্য ২৪ কিলোমিটার। এর সঙ্গে থাকবে ১৪টি র্যাম্প, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার।
প্রকল্পের অংশ হিসেবে নবীনগরে ১ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার উড়ালপথ এবং আশুলিয়া-ধউর বেড়িবাঁধ এলাকায় ২ দশমিক ৭২ কিলোমিটার সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।
কাজ শেষ হলে এই এক্সপ্রেসওয়ে এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং ঢাকা থেকে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হবে।