উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের বাজারমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মধ্যে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পাটের ভালো দাম পাওয়ায় দীর্ঘদিনের লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা। ফলে আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে পাট চাষের পরিকল্পনা করছেন অনেক কৃষক।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমের শুরুতে পাটের দাম আরও বেশি থাকলেও বর্তমানে কিছুটা কমেছে। তবে গত বছরের তুলনায় বাজারদর এখনও সন্তোষজনক থাকায় কৃষকরা উৎপাদন খরচ তুলে লাভের আশা করছেন।
একসময় দেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত পাটের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দুর্গাপুরের অনেক কৃষক এ ফসল চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে কম দাম পাওয়ায় অনেকেই বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকেছিলেন। তবে চলতি মৌসুমে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।
দুর্গাপুর বাজারে পাট বিক্রি করতে আসা কৃষক ওয়াজ নবী বলেন, গত বছর প্রতি মণ পাট ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। এবার তিনি প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। তার ভাষায়, বর্তমানে দাম কিছুটা কমলেও গত বছরের তুলনায় এবার ভালো লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
আরেক কৃষক আবুবক্কার বলেন, গত কয়েকটি হাটে পাটের দাম আরও বেশি ছিল। বর্তমানে কিছুটা কমলেও উৎপাদন খরচ উঠে আসার পাশাপাশি কিছুটা লাভ হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষ করবেন।
উপজেলার সিংগা গ্রামের কৃষক আল-আমিন জানান, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই পাটের সবচেয়ে ভালো দাম পেয়েছেন। উৎপাদন ব্যয় বাদ দিয়েও লাভ হচ্ছে। তাই আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে পাট আবাদ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পাট ব্যবসায়ী লোকমান আলী বলেন, বর্তমানে বাজারে পাটের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে। মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কেনা হলেও এখন মানভেদে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকায় কেনা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দুর্গাপুর উপজেলায় ১ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।
দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, এ বছর পাটের ফলন ও বাজারমূল্য—দুই দিক থেকেই কৃষকরা ভালো অবস্থানে রয়েছেন। কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে পাটের আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।