উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
রংপুরের কাউনিয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ‘ধান লুটের সাজানো ঘটনা’ তৈরি করে হয়রানির অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবার। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ মব জাস্টিসের মাধ্যমে তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, কাউনিয়া উপজেলার নিজদর্পা গ্রামের শাহাদৎ হোসেনের ছেলে নুর আমিনের সঙ্গে একই গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে আজিজুল ইসলাম, মোফাজ্জল ও মাহাবুর রহমানদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
অভিযোগে বলা হয়, পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন দলবল নিয়ে নুর আমিনের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে বাড়ির উত্তর ও পূর্ব পাশের টিনের বেড়া ভাঙচুর করে নিয়ে যায় এবং জমি দখলের চেষ্টা করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে নুর আমিনের বাবা শাহাদৎ হোসেনকে (৭৬) লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলায় শাহাদৎ হোসেনের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। তার চিৎকার শুনে ছেলে নুরুজ্জামান (৪৫) এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। এ ছাড়া নুর আমিনের স্ত্রী নাছিমা বেগম (৩০) বাধা দিতে গেলে তাকেও লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
তাদের আরও অভিযোগ, হামলাকারীরা নাছিমা বেগমের কানের সোনার দুল, ঘরে থাকা নগদ টাকা এবং গরু বিক্রির ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পাশাপাশি খড়ির ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া ও টিনের বেড়া ভাঙচুর করা হয়।
পরে স্থানীয়রা আহত শাহাদৎ হোসেনকে উদ্ধার করে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ২৫ জুলাই বিকেলে একই বিরোধের জেরে ধান ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম (৪০) নুর আমিনের বড় ভাই নুরুল হকের বাড়ি থেকে ১৪ মণ ২৪ কেজি ধান কিনে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন ধানের বস্তা আটকে দেয়।
তাদের দাবি, পরে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উল্টো ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে ধান লুটের অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশের ব্যবস্থা করা হয় এবং আইনি হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় নুরুল হকের স্ত্রী খালেদা বেগম (৩৮) কাউনিয়া থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিয়াব উদ্দিন বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’