উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সামিউল হাসান শোভনের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করেন। পোস্টের একটি অংশে সহিংসতার ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য থাকায় তা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়।
পোস্টে সামিউল হাসান শোভন লেখেন, শিবিরকে ‘জেগে ওঠার’ আহ্বান জানিয়ে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেন। তার বক্তব্যের একটি অংশকে অনেকেই সহিংসতাকে উৎসাহিত করার মতো মন্তব্য হিসেবে দেখছেন।
পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী এর সমালোচনা করেন। আইন বিভাগের শিক্ষার্থী প্রিন্স সম্রাট মুস্তাকিম ফেসবুকে লিখেছেন, একজন ছাত্রপ্রতিনিধির কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এদিকে, গকসুর ক্যান্টিন সম্পাদক মনোয়ার হোসেন অন্তরও বিষয়টি নিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দেন। সেখানে তিনি এ ধরনের বক্তব্যকে বিদ্রূপ করে মন্তব্য করেন।
নিজের পোস্টের বিষয়ে সামিউল হাসান শোভন বলেন, “পোস্টটি আমি নিজেই দিয়েছি। তবে এটি আমার ব্যক্তিগত মতামত। এর সঙ্গে গণ বিশ্ববিদ্যালয় বা গকসুর কোনো সম্পর্ক নেই।”
তিনি দাবি করেন, পোস্টটি কোনো নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের ঘটনা নিয়ে লেখা নয়। জাতীয় রাজনীতি ও বিভিন্ন ক্যাম্পাসের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গেই তিনি এটি লিখেছেন।
গকসুর ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, ছাত্র সংসদের কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত বক্তব্যের দায়ভার ছাত্র সংসদ নেবে না।
তিনি বলেন, “দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকলে কথাবার্তায়ও তার প্রতিফলন থাকা উচিত। ব্যক্তিগত অনুভূতির চেয়ে দায়িত্ববোধকে প্রাধান্য দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মন্তব্য ও পোস্ট অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। তাই সবাইকে ব্যক্তিগত মত প্রকাশে সংযত ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
গকসু নির্বাচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিবিরের বিভিন্ন নেতার পক্ষ থেকে সামিউল হাসান শোভনসহ কয়েকজন নির্বাচিত প্রতিনিধিকে অভিনন্দন জানানো হয়। পাশাপাশি স্থানীয় জামায়াত-শিবির নেতারাও তাদের শুভেচ্ছা জানান বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া শিবিরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাকে দেখা গেছে—এমন দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ছবি ছড়ানো হয়েছে। তবে সামিউল হাসান শোভন বরাবরই নিজের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
এ বিষয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. নির্জন বলেন, ক্যাম্পাসে সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা তৈরির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তারা অবস্থান অব্যাহত রাখবেন।